নদীভাঙন রোধে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার

বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীতীর সংরক্ষণে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গতকাল মঙ্গলবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানার তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন রোধ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, কৃষিজমির লবণাক্ততা হ্রাস এবং টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ২৫০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩১ মে পর্যন্ত ২০৬ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৩টি গ্রোয়েন অথবা স্পার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ২৫০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে মোট ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং ৫০টি গ্রোয়েন অথবা স্পার নির্মাণ ও মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এবং ৫৮টি প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে নদীতীর সংরক্ষণ, নদী পুনরুজ্জীবন, সেচ ও পোল্ডার পুনর্বাসন এবং বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসভিআরএস)-এর ২০২২ ও ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৩ হাজার ৫০০টির বেশি পরিবার এবং ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত বা উদ্বাস্তু হয়। এ কারণে নদীভাঙন প্রতিরোধ ও নদীতীর সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।