ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে

বললেন মীর হেলাল উদ্দীন

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে এবং মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণসামগ্রী যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। কেউ সহায়তাহীন থাকবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন বন্যা ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রতিমন্ত্রী বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছে নগরী ও হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দুর্গত মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার ব্যাংক কলোনি এলাকার পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী হাটহাজারী উপজেলার ইছাপুর ও আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া জালালাবাদের বটতলা এবং দক্ষিণ পাহাড়তলীর খিল্লাপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দুর্গতদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার, এটা কোনো ডামি ভোটের সরকার নয়। এই সরকার জনকল্যাণের সরকার, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই কাজ করছি।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক। বর্তমান পরিস্থতিতে এই দুর্যোগকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তার সরাসরি নির্দেশনা নিয়েই আমি রাঙ্গামাটিতে ছুটে এসেছি, শুধু রাঙ্গামাটি নয় পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি সেভাবেই কাজ করছি।

পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের স্থানীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বাঙালিসহ পার্বত্য অঞ্চলের ১২টি জাতিগোষ্ঠীর সমঅধিকারভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিভর পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে সবসময় কাজ করেছে এবং করে যাবে। বর্তমান দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের পাশে সরকার অতীতের মতো আন্তরিকভাবে পাশে থেকে কাজ করে যাবে।

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গত বুধবার রাতে রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির আশ্রমের হলরুমের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এড. মামুনুর রশীদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা জাসাসের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন বাবলুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে টানা বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসের সম্ভাবনা দেখা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার অনুরোধ করেন এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলার জন্য মোট ১৩০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন, খাগড়াছড়ির জন্য ৪০০ মেট্রিক টন এবং বান্দরবানের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও খাবার বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

টানা বৃষ্টি এবং পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপিকে কাছে পেয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মন খুলে কথা বলেন।