শেখ হাসিনা কাপুরুষোচিতভাবে এই দেশ থেকে পালিয়েছে

বললেন নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছে। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন ফাঁসির দড়িতে ঝুলতেই হবে। গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর বাংলাদেশে কখনো ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার কাপুরুষোচিতভাবে এই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আর এই দেশে আসার সৎ সাহস কখনও রাখবে না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। এই সরকার থেকে দিল্লিকে ম্যাসেজ দিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেসব তথ্য প্রচার করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছুদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, চীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শুন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো কমিটমেন্ট পাইনি।

তিনি আরও বলেন, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের সিপাহসালার ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম নির্বাচনের পরে বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল হিসেবে বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এবারের নির্বাচনে যেই সরকার গঠিত হয়েছে তাদের প্রথম বাজেটে রংপুর বিভাগের প্রতি সুনজর দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম এবারের বাজেটেও রংপুর বিভাগের সঙ্গে বাজেট বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ আসনবিরোধী দলের হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রজেক্ট রাখা হয়নি। বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। কিন্তু যারা প্রকৃত বৈষম্যের শিকার, সেই রংপুরবাসী কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পায়, বিরোধী দলের এমপিরা সেই বরাদ্দের তিনভাগের একভাগও পাচ্ছে না।

রংপুর বিভাগীয় এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।