রাজশাহীকে অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে
বললেন ভূমিমন্ত্রী
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী ব্যুরো

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ১৯৫৯-৬০ সালের দিকে রাজশাহীতে যাত্রা শুরু করা পূবালী ব্যাংক এ অঞ্চলের মানুষের বিশ্বস্ত অংশীদার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে এই ব্যাংকের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। আগামী দিনে রাজশাহীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যাংকিং প্রসারে কাজ করবে পূবালী ব্যাংক। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী নগরীর সিএন্ডবি মোড়ে একটি হোটেলে রাজশাহী পূবালী ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত ক্যাশলেস রাজশাহী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত এই অঞ্চলের মানুষ নতুন এই ডিজিটাল ব্যাংকিং পদ্ধতিকে দ্রুত গ্রহণ করবে এবং এর ফলে রাজশাহীর অর্থনৈতিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রায় রাজশাহীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করতে এবং আধুনিক সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের আদলে ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করতে পূবালী ব্যাংক ‘কিউআর সিস্টেম’ চালু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কোনো প্রকার কাগুজে মুদ্রার ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন করতে পারবেন। রাজশাহীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য যেমন- শাক-সবজি ও ফলমূল সরাসরি দুবাই বা সিঙ্গাপুরে রপ্তানির জন্য রাজশাহী বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এছাড়া, বিসিক সিল্ক শিল্প নগরী এবং ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এসময় তিনি ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালক আজিজুর রহমান। রাজশাহী পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মো. সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন খাঁন, পূবালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. বায়েজীদ সরকার ও মো. নাজিম উদ্দীন এবং মো. শাহ নওয়াজ খান। অন্যান্যের মধ্যে পূবালী ব্যাংকের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজশাহীতে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে বাংলা কিউআর কোড তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী।
শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় কোনো প্রতিবন্ধকতা যেন না থাকে, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাবৃত্তি ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর মনিচত্বরস্থ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী মেধা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও শিক্ষার প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পারিবারিক আর্থিক চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের বৃত্তি কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাই নয়, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং ঝরে পড়ার হার কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈশা)-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা। এছাড়াও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী ৪৮২ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
পরে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হলে মেধাবী; কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার পথে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে।
