পানিবাহিত রোগে সতর্কতা
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পানিবাহিত ও সংক্রামক বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), হেপাটাইটিস এ ও ই-সহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনের ভাষ্য, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি মূলত দুটি কারণে তৈরি হয়। প্রথমত, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ খাদ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকট দেখা দেয়। চারদিকে পানি থাকলেও তা পানযোগ্য না হওয়ায় দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ডায়রিয়া, কলেরা এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডায়রিয়া মূলত দূষিত পানি ও খাদ্য গ্রহণের কারণে হয়। এতে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়, ফলে রোগী মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে কলেরা ডায়রিয়াজনিত একটি সংক্রামক রোগ, যা নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। তীব্র ডায়রিয়ার পাশাপাশি বারবার বমি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দুর্বলতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কিডনির জটিলতা বা শকের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, রোগের কারণ আলাদা হলেও ডায়রিয়া ও কলেরা- উভয় ক্ষেত্রেই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা। এজন্য দ্রুত ওরস্যালাইন খাওয়ানো, নিরাপদ পানি পান করানো এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তার মতে, দ্বিতীয় ধরনের ঝুঁকি আসে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিবেশগত প্রভাব থেকে। এ সময় পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা, সাপের কামড় কিংবা জলাবদ্ধ পানিতে থাকা কাচ, টিন বা ধারালো বস্তুতে পা কেটে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না। এ সময় টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। টাইফয়েডের জটিলতায় অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, হেপাটাইটিস, পিত্তথলির প্রদাহ এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের বড় অংশই শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। জ্বর, ডায়রিয়া, পেশিব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ টয়লেট ব্যবহার, বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া জলাবদ্ধ পানিতে না নামার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। যদি পানিতে নামতেই হয়, তাহলে পরে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে শরীর পরিষ্কার করে শুকনো ও পরিষ্কার পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
