আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে আইনজীবী শহিদুল আলম রাহাত সাক্ষ্য দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “আইনজীবী রাহাত মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

“রাহাত সাক্ষ্যে বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি নীল গেঞ্জি ও হেলমেট পরা একজনকে বটি হাতে দেখেন। একটু দূরে ৫০-৬০ জন লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। একটু পরই ওই লোকজন তাড়া করলে আলিফ পেছন থেকে তাকে ডাক দেন। এরপর তিনি পেছনে ফিরেই দেখেন বটি হাতে একজন আলিফের ওপর আক্রমণ করেছে।”

রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “তখন প্রাণ রক্ষায় রাহাত সেখান থেকে সরে আসেন। ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।” সাক্ষ্য দেওয়ার পর অন্য আসামিদের পক্ষে সাক্ষী শহিদুল আলম রাহাতকে জেরা করা হলেও মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তাকে জেরা করা হয়নি। রায়হানুল ওয়াজেদের ভাষ্য, আসামি চিন্ময়ের পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, তারা মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন। তারা জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেছেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২০ আগাস্ট জেরার পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছে। সোমবার আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভিডিওকলে হাজির করা হয়। তার জামিন আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর করে আদালত। আর সশরীরে শুনানিতে থাকা অন্য আসামিদের পরে কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২৭জন কারাগারে রয়েছেন। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ১২ আসামি। গত ২০ মে এ মামলার বাদী ও নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিনের জেরা শেষ হয়। চিন্ময়ের পক্ষে বাদীকে জেরার জন্য ছয়বার সময় আবেদন করা হয়েছিল। পরে চিন্ময়ের পক্ষে জেরা করা ছাড়াই বাদীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়।

গত ১৯ জানুয়ারি এ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। ৩১ জনের নাম তুলে ধরে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই ছিলেন নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।

ঘটনার সময় পুলিশ হেফাজতে থাকা চিন্ময়কে কেন প্রধান আসামি করা হয়, সেই ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সেদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তার বক্তব্যের কারণে অন্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবীর উপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। “হুকুমদাতা হিসেবে চিন্ময় দাস এই মামলার প্রধান আসামি। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।” অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য’ সেদিন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়। মহানগর দায়রা জজ আলোচিত হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য গত ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠায়।