বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি চাপের মুখে মোদি
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকারধারণ করেছে। গতকাল বুধবার নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থলে অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে সমর্থকদের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও এখন তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমণ্ডভিত্তিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দিল্লি থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা বলেছেন, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত যন্তর মন্তর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং সেখানে বুধবার কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজিপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, যে দেশে সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করা হতো; আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।
বেশিরভাগ তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই দিন দেশটির বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।
দেশটির বিরোধীদল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার লাখ লাখ আন্দোলনকারীর ওপর পুলিশের চালানো দমনপীড়নের জন্য সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলেন। ৫৬ বছর বয়সী রাহুল গান্ধীকে মঙ্গলবার প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। গতকাল বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন তিনি।
বিরোধী সমাজবাদী পার্টি পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। সেখানে দলটির নেতা অখিলেশ যাদব বলেছেন, ভারতের প্রত্যেক তরুণের ওপর প্রভাব ফেলছে, এমন একটি বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
গত মে মাসে দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে এক মামলার শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) এবং ‘পরজীবী’ হিসেবে তুলনা করেন। এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচারপতির এই মন্তব্যের জেরে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশটিতে আত্মপ্রকাশ ঘটে অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে সিজেপির।
পরবর্তীতে বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান আর মোদির ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক সব বিষয়কে নিজেদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে ককরোচ জনতা পার্টি। সোমবার বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুর দিনে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। তরুণদের এই বিক্ষোভণ্ডপ্রতিবাদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটির রাজধানীতে সবচেয়ে বড় রাজপথের সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দিল্লি বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুযায়ী আইনি বাধ্যবাধকতা, প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিকতার শর্ত পূরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে, বুধবার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। যন্তর মন্তরে একদল আন্দোলনকারী প্রায় এক মাস ধরে অবস্থান করছেন। একজন আন্দোলনকারী বলেন, এটিই প্রথমবারের মতো দেশের তরুণদের কথা বলার সুযোগ এনে দিয়েছে।
এএফপিকে কাব্য নামের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ভীত। কারণ সোমবার আমি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর এবং বলপ্রয়োগ করতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনে উপায় নেই।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত কয়েকটি অনিয়মের পর এই আন্দোলন শুরু হয়। যে ঘটনার কারণে ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রায় ২০ লাখ হাইস্কুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আরেকটি বিতর্কও জনগণের মাঝে ক্ষোভ উসকে দিয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী প্রধান বলেছেন, সরকার সংস্কার এবং পার্লামেন্টে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত সোমবারের প্রতিবাদের পর মঙ্গলবার শেষ রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যে তিনি লেখেন, আমাদের তাদের (শিক্ষার্থীদের) কাছে জবাব, সংস্কার এবং জবাবদিহি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলার চেয়ে নিশ্চয়তা, স্লোগানের চেয়ে সমাধান এবং বিঘ্ন ঘটানোর চেয়ে দায়িত্বশীলতা বেশি পাওয়ার যোগ্য।
সিজিপির প্রতি সমর্থন দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী-খ্যাত মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার মানুষ।
দিল্লিতে বিক্ষোভ সামাল দিতে ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করল সরকার : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)। ফলে অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গতকাল বুধবার নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)। রাজধানীজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিক্ষোভ ও সংসদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই সময়ে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি), সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের বিক্ষোভও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৃষি চুক্তিবিরোধী আন্দোলন এবং কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভ চলছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাজধানীর ভেতরের বিক্ষোভে বাইরের আন্দোলনকারীরা যাতে যোগ দিতে না পারেন এবং তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, প্রশাসনিক এলাকা এবং সংবেদনশীল স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে আরও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমআরসি জানিয়েছে, বন্ধ স্টেশনগুলোতে আপাতত যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল চালু থাকবে এবং ট্রেনগুলো বন্ধ স্টেশনগুলোতে না থেমে চলাচল করবে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং যাত্রার আগে সর্বশেষ পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন রাহুল গান্ধী
দিল্লিতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবারের এই ঘটনাকে তিনি ‘শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন এতদিন চুপ করে আছেন পুলিশ যে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, তাদের কাছে তিনি এখনও ক্ষমা চাননি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত এখনই কথা বলা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পুলিশি অভিযান বন্ধ করা।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে রাহুল গান্ধী বিরোধী দলের সাংসদদের নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট। গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্মমতা চালানো হয়েছে এবং পরীক্ষা সংকট নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতার যে অভাব রয়েছে, তা নিয়ে সংসদে পুরোপুরি আলোচনা হতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য দাবি তোলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। রাহুল বলেন, যদি দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে আলোচনাই না হয়, তাহলে সংসদের কাজটা কী।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস কেন ব্যবহার করা হলো খাড়গে আরও দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী একটি নির্ভুল ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।
গত সোমবার সংসদ অভিমুখে হাজারো শিক্ষার্থীর মিছিলের পর দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে শতাধিক পুলিশ সদস্যসহ ষাটের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিরোধীরা বলছেন, এ ইস্যু তারা কোনোভাবেই চাপা পড়তে দেবেন না।
কানে কানে পুলিশ বলেছে ‘মোদি সরকারের পতন ঘটাও
প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে গতকাল আটক হয়েছিলেন ভারতের বিরোধীদলের নেতা রাহুল গান্ধী। এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন অভিমুখে মার্চ করেছিলেন। আটক হওয়ার পর রাহুলকে পুলিশ ধরে নিয়ে একটি বাসে নিয়ে রাখে।
গতকাল বুধবার নিজের আটক ও আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন রাহুল। তিনি দাবি করেছেন, গতকাল যখন তাকে আটক করা হয় তখন পুলিশের এক সদস্য তাকে কানে কানে বলেন, ‘এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটিয়ে দাও।’
রাহুল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে এই মুহূর্তে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। তিনি এই পুরো ব্যবস্থাকে চালানোর জন্য একজন অক্ষম ব্যক্তি।’ ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে তারা আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীরাও ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ চেয়ে আসছেন।
রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন এক যুগে ১৫২ বার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। কিন্তু এজন্য দায়ী কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘গত এক যুগে ১৫২ বার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। যদি আপনি হিসেব করেন তাহলে প্রতিমাসে একবার করে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও পরিবার এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত। তারা তাদের পুরো জীবনের কষ্টার্জিত সাশ্রয় এসব পরীক্ষায় খরচ করেছেন। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’ তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো গত ১০ বছরে প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে কাউকে দায়ী করা হয়নি। এটি শূন্য।’
অমিত শাহ-ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ভারতের পার্লামেন্ট উত্তাল
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস নেতাদের বিক্ষোভের পর এবার পার্লামেন্টেও একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে হাজির হয়ে ফটকের বাইরে বিক্ষোভ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন বিরোধী সংসদ সদস্যও যোগ দেন।সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সাংসদরাও কালো স্কার্ফ পরেছিলেন। এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। পরে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে তাকেও আটক করা হয়েছিল।
বিরোধীরা নিট ইস্যু এবং সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁরা পার্লামেন্ট ভবনের ফটকে জড়ো হয়ে সরকার এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার বিরোধীরা দাবি করেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরই কেবল যেকোনো আলোচনা হতে পারে।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পবন খেরা বলেন, ‘প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, তারপর আলোচনা হবে। এতগুলো ছাত্রছাত্রীর ওপর লাঠিচার্জের পর এখন কী আলোচনা হবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।’
এনডিটিভিকে সূত্র জানিয়েছে, বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী সরকার সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। সব দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কোন নিয়মে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে, তা স্পিকার ঠিক করবেন।
