ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁস ইস্যুর সঙ্গে জড়িতদের ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণদের মঙ্গল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত।’
গতকাল বৃহস্পতিবার এএফপি ও ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি এসব বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চলমান আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম সরাসরি কোনো মন্তব্য করলেন।
তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
‘যারা তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না’, হুঁশিয়ারি দেন মোদি।
তবে মোদির এই বার্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া অনলাইনভিত্তিক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মোদির টুইটের জবাবে দলটি জানায়, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে’।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ভারতে শিক্ষা সংস্কার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বিরোধী দলগুলো যোগ দেওয়ায় আন্দোলন আরও গতিশীল হয়। গতকাল বুধবার সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাশ জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনো দরকষাকষিতে তারা আগ্রহী নন।
সৌরভ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগ না করছেন, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।’ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও আলাদা আলাদা বার্তায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেন।
এদিকে গতকাল সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে জবাবদিহি চেয়ে আন্দোলনরত তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস পেলে অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন। সোনমের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন সিজেপির সৌরভ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয়ে একমত হয়েছেন।সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘শান্তি ও অহিংসাই আমাদের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। আমি ককরোচ জনতা পার্টির প্রত্যেক সদস্যকে নিয়ে গর্বিত। সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও তারা সহনশীলতা, সাহস ও ধৈর্য দেখিয়েছেন।’
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিক্ষোভ পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজীব চক, প্যাটেল চক, দিল্লি গেট ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ দিল্লি মেট্রোর ১৬টি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন (ইন্টারচেঞ্জ) সেবা চালু আছে।
এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘মোদি পুরো দিল্লি বন্ধ করে দিতে পারবেন, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে পারবেন না।’ এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি থানায় মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সংসদ স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেসে তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি হলো, বর্তমান ও ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যাবে না।
গত সোমবার সিজেপি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি বানচাল করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।
দুই পক্ষের সহিংসতায় অন্তত ১৭৮ জন আহত হন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী থাকা সিজেপি (ককরোচ জাস্টিস পার্টি) গত মে মাসে প্রথম আলোচনায় আসে। আদালতের এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার পর ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এর সূচনা হয়। এরপর আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনব্যবস্থা ক্রমেই আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। ২০২৪ সালে টানা তৃতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ একের পর এক পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে আবারও পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন নিয়ে আরেকটি বিতর্কও জনমনে আরও ক্ষোভ বাড়ায়।
আজ শুক্রবার কলকাতায় আন্দোলন করবে ককরোচ জনতা পার্টি
দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান আন্দোলনের আবহ এবার ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে কলকাতায়। চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি কলকাতায় মিছিলের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়ে আবেদনও করা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ও ২১ জুলাই কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সদর এবং যুগ্ম কমিশনার অপরাধ দমন বরাবর ইলেকট্রনিক ডাকযোগে আবেদন পাঠানো হয়। আবেদনকারী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন দলের সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়।
আবেদনে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে রানি রাসমণি সড়ক পর্যন্ত মিছিল করতে চায় ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের কর্মকর্তারা আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনও অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
যদিও পুলিশ সূত্রের দাবি, অনুমতি মিলুক বা না মিলুক, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।
দলের সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এখনো পুলিশের কাছ থেকে কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি না পেলে কী করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ভারতে পুলিশ ভ্যানের সামনে রুখে দাঁড়ালেন তরুণী
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত ও শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছেন এক তরুণী। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ চলছে। বুধবার সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একা এক পুলিশ ভ্যানের পথ আটকে দাঁড়ান ওই তরুণী।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়া অহির নামের ওই তরুণীকে মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজী পার্কের কাছে একটি চলন্ত পুলিশ ভ্যান থামিয়ে দিতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশের সদস্যরা তাকে পুলিশ ভ্যানের সামনে থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে যান।
একা এক তরুণীর পুলিশ ভ্যান আটকে দেওয়ার এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তুমুল বৃষ্টির মধ্যে হুডি ও ক্যাপ পরা রিয়া ভ্যানটির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। দুই হাত দিয়ে পুলিশের এই ভ্যানের সামনে চলা ঠেকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তার এমন সাহসিকতা দেখে আশপাশের মানুষ করতালি দিয়ে স্লোগানে স্লোগানে তাকে সমর্থন জানান। পরে রিয়ার এই এই বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত আটক আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিয়া বলেন, ??‘পুলিশ দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।’
তিনি বলেন, নিজে শিক্ষার্থী না হলেও আন্দোলনরত তরুণদের ন্যায্য দাবির প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির প্রতিবাদে দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) সমর্থকদের ওপর পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রিয়া বলেন, গত পরশু শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়ার এই পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই তাকে ‘বাস্তবের নায়ক’ বলে অভিহিত করছেন।
মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রোহান জোশী ইনস্টাগ্রামে লেখেন, মুম্বাইয়ের তরুণরা বুকে ক্ষোভ কিন্তু আচরণে অভূতপূর্ব সংযম নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। পুলিশ তাদের সঙ্গে টানা-হেঁচড়া করেছে, আটক করেছে। তবুও তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে অত্যন্ত মার্জিত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে গেছে।
ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, রিয়া অহির একাধারে অভিনেত্রী, মডেল ও উদ্যোক্তা। ইনস্টাগ্রামে তার প্রায় এক লাখ অনুসারী রয়েছে। বেশ কিছু জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতেও দেখা গেছে তাকে। এর মধ্যে তার সর্বশেষ দিলবারা নামের একটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যবসায়ী হিসেবে হস্তশিল্প ও পোশাক নিয়ে কাজ করেন রিয়া। রিয়াসত নামে তার একটি নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ডও রয়েছে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের রেষ এখন ছড়িয়ে পড়েছে মুম্বাইয়েও।
পরীক্ষায় অনিয়ম এবং দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের প্রতিবাদে বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো সরব ছিল মুম্বাইয়ের রাজপথ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিবাজী পার্ক, চৈত্যভূমি, চেম্বুর ও শিবসেনা ভবনের সামনে একযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এদিকে, আন্দোলন ঘিরে কড়াকড়ি আরোপ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলেছে, ১৮ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও বেআইনি সমাবেশের অভিযোগে মুম্বাইয়ে ১৩টি মামলা (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় প্রায় ৪০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সিজেপি বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ
ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভ আরও তীব্র হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো- লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তন (ইন্টারচেঞ্জ) করা যাবে। অর্থাৎ, যাত্রীরা এসব স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে স্টেশনের বাইরে বের হওয়া বা বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। ডিএমআরসি তাদের পোস্টে জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
এদিকে, কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। দলটি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ করছে। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানাচ্ছে। বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সালমান খানের সমর্থন
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেছেন তিনি।বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সালমান খান লেখেন, ‘এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। কিন্তু এটি সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় খুবই খারাপ লাগছে। আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। প্রশ্নফাঁস অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যা। দেশের শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে—এটি দেখে আমি আনন্দিত। তাদের পাশে অভিভাবকেরাও আছেন।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রম করে ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছারই প্রতিফলন।
তার ভাষায়, ‘এই আন্দোলনই সঠিক পথ। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানিয়েছে। তাদের সাহস ও দৃঢ়তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। শিক্ষা নিয়ে এই প্রজন্মের আগ্রহ ভবিষ্যতে ভারতকে আরও শক্তিশালী করবে।’
সালমান খান সতর্ক করেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা হয়। তিনি বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার একটি বিষয়। এর কৃতিত্ব কেবল শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য।
