সুসংবাদ প্রতিদিন
দিনাজপুরে আখের ফলনে খুশি কৃষক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরে জেলা সদরসহ ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এর মধ্যেই আগাম জাতের এ আখ মাড়াই শুরু হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি। জেলার ১৩ উপজেলা যথাক্রমে বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিববন্দর, বোছাগঞ্জ, বিরল, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ি, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৮০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে বলে দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন এক সাক্ষাৎকারে জানান- মিল জোন-৩১৫ হেক্টর, নন মিল জোন-৩০ হেক্টর, অর্জিন মিল জোন-২৫ হেক্টর ও নন মিল জোন-১০ হেক্টরসহ মোট-৩৮০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আখ চাষ করেছেন।
কয়েক মাস আগে বিভিন্ন জাতের এসব আখ সংগ্রহ করে (৩ চোখের ডাং) রোপণ করা হয়। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এ আখ একবার জমিতে লাগালে মোতা আখ এবং ১, ২, ৩ সনের আখও পাওয়া যায়। এ মোতা আখে কৃষকের সবচেয়ে বেশি লাভ হয়।
এর মধ্যেই আগাম জাতের আখ মাড়াই শুরু হয়েছে। শীতকালে এ আখ মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে। প্রতি কেজি গুড় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং কোথায় কোথায় খাঁটি গুড় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কৃষকরা জমি থেকে আখ বিক্রি করছেন। শহর-বন্দরসহ বিভিন্ন যানবাহনেও এ আখ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে মেশিনে ভাঙানো আখের রসের চাহিদাও বেশি। প্রতি গ্লাস রস এখন ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে যেমন কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, তেমনি আখ বিক্রেতারাও লাভবান হচ্ছেন। প্রায় কয়েক যুগ আগে এ জেলার অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলের জমিতে নানা জাতের আখ চাষ হতো। কিন্তু পরবর্তীতে কৃষকরা ইরি-বোরো চাষে ঝুঁকে পড়ায় ক্রমাগতভাবে আখ চাষ কমে যায়।
প্রায় দেড় বছর আগে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা আবারও আখ চাষ শুরু করেছেন। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে লাভজনক আখ চাষের প্রভাবও বাড়ছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আখ চাষে কৃষকদের যথানিয়মে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ আখ চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং প্রায় সারা বছরই এ চাষ হয়ে থাকে। এবার এ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।
