সুসংবাদ প্রতিদিন

তিতাসে আঙুর চাষে সাফল্য

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তাজুল ইসলাম, তিতাস (কুমিল্লা)

বাংলাদেশে আঙুর চাষ এখনও খুব একটা পরিচিত নয়। তবে আগ্রহ, পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে যে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে, তারই এক অনন্য উদাহরণ গড়ে তুলেছেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের মোজাম্মেল হক। শখের বশে শুরু করা তার আঙুর বাগান এখন স্থানীয়দের কৌতূহল ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন লাগানো গাছেই থোকায় থোকায় আঙুর ধরায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন বাগানটি দেখতে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিজুড়ে বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানটি। নিচু জমিকে চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালি ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এরপর ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে একুনো, বাইকুনো, ব্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের ১৪৪টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করে গত ১৬ মার্চ রোপণ করা হয়। প্রতিটি চারার দাম ছিল ৪০০ টাকা। চারা, অবকাঠামো ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বাগানটিতে।

মো. মোজাম্মেল হক জানান, ইউটিউবে ঝিনাইদহের মহেশপুরের একজন সফল আঙুর চাষির বাগান দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরে নিজে সেখানে গিয়ে বাগান পরিদর্শন করেন এবং প্রায় পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শেষে আঙুর চাষ শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। অতিবৃষ্টি এবং বাগান নতুন হওয়ায় এবার ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের আশা করছি। একটি আঙুরগাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম।

বাগান দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মইনুদ্দিন, শামীম ও আকলিমা বলেন, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে এসব ফল কিনতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহ বাড়ানো গেলে কৃষির বহুমুখীকরণ সম্ভব হবে। তিতাসের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য কৃষকের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মোজাম্মেল হকের আঙ্গুর চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগের নজরে রয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।