কক্সবাজারে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

* প্রণোদনা পাচ্ছেন ১০ হাজার ৭৭৮ কৃষক * ৪ হাজার ২১১ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এএইচ সেলিম উল্লাহ, কক্সবাজার

টানা নয় দিনের ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কক্সবাজারের কৃষকেরা। বন্যার পানিতে রোপা আউশ, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও পান বরজ তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে হচ্ছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রাথমিকভাবে জেলার ১০ হাজার ৭৭৮ জন কৃষককে ৫ কেজি করে ধানের বীজ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কমিউনিটি ভিত্তিক বীজতলা থেকে চারা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় আবাদ শুরু করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৭৮ হেক্টর জমিতে নতুন করে চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় জেলায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ মোট ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়ায়, যেখানে ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এরপর কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর, পেকুয়ায় ৫০০ হেক্টর, রামুতে ৩৪০ হেক্টর, মহেশখালীতে ২৩৭ হেক্টর, টেকনাফে ১৪০ হেক্টর, কক্সবাজার সদরে ৮৮ হেক্টর, ঈদগাঁওয়ে ৭৫ হেক্টর এবং উখিয়ায় ৫০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন, পেকুয়ায় ৭ হাজার ২০ জন, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৪১৫ জন, রামুতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন, মহেশখালীতে ৪ হাজার ৩২০ জন, টেকনাফে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক রয়েছেন। গত সোমবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা নতুন করে আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ ও চারা তৈরির কাজ চলছে।

উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার কৃষক আলী হোসেন বলেন, বন্যায় আমার আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সবজির ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে ছিল। এখন আবার নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছি।

একই এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, বানের পানিতে পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে চাষ শুরু করতে বীজের খুব প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, বন্যায় কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলার ১০ হাজার ৭৭৮ জন কৃষককে ৫ কেজি করে ধানের বীজ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবজির বীজও বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, যেসব কৃষকের নিজস্বভাবে বীজতলা তৈরির সুযোগ নেই, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কমিউনিটি ভিত্তিক বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় চারা সংগ্রহ করে কৃষকেরা আমন আবাদ করতে পারবেন।