শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াবে
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ অনেকটাই নির্ভর করে তার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের ওপর। জন্মের পর প্রথম পাঁচ বছর মস্তিষ্কের বৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত ঘটে। এ সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে শিশুর শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং আচরণগত বিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশের জন্যও শিশুর খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার : মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রয়োজন হয় নিউরোট্রান্সমিটার। এ রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের উৎস হচ্ছে ডিম, মাছ, মুরগির চর্বিহীন মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, ছোলা, বাদাম।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড : ওমেগা-৩, বিশেষ করে ডিএইচএ, শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং শেখার সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক। এই পুষ্টি মিলবে সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ (স্যামন, সারডিন, ম্যাকারেল), তিসির বীজ, চিয়া সিড, আখরোট ও কুমড়ার বীজ থেকে।
ফোলেট ও ভিটামিন কে : ফোলেট নতুন কোষ গঠনে এবং ভিটামিন কে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। এ দুটি পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, লাল শাক, ব্রকলি, মসুর ডাল, মুগ ডালসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ভরপুর ফোলেট ও ভিটামিন কে।
ভিটামিন বি : ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স শরীরে খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখে। এটি মানসিক ক্লান্তি কমাতেও সহায়ক। কলা, ওটস, লাল চাল, বিভিন্ন শস্য, ডিম, ডাল ও দুধে পাওয়া যায় ভিটামিন বি।
কোলিন : কোলিন স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান। ডিমের কুসুম, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলিতে পর্যাপ্ত কোলিন রয়েছে।
আয়োডিন : থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন অপরিহার্য। এ হরমোন শিশুর মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে শেখার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
