সুসংবাদ প্রতিদিন

লটকন চাষে হাফেজ রোকনউদ্দিনের সাফল্য

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহ মো. হাছান, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের হাফেজ রোকনউদ্দিনের জীবন একসময় আবর্তিত হতো মসজিদ ও মাদ্রাসাকে ঘিরে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইমামতি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি অবসর সময়ে তিনি ফলগাছের পরিচর্যা করতেন। গাছের প্রতি সেই ভালোবাসাই তাকে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে নেয়। বর্তমানে চার বিঘা জমিতে গড়ে তোলা দুটি লটকনের বাগানই তার আয়ের প্রধান উৎস।

প্রায় আট বছর আগে মাত্র ৩০টি চারা রোপণের মাধ্যমে লটকন চাষ শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে পরিচর্যা, পর্যবেক্ষণ ও নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি উন্নত জাত নির্বাচন করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার উৎপাদিত এই জাতটি এলাকায় ‘নয়নপুরী লটকন’ নামে পরিচিত।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছই ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা পাকা লটকনে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে এসে ফল সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি উন্নত জাতের কলম কিনতেও প্রতিদিন আসছেন অনেক কৃষক ও আগ্রহী উদ্যোক্তা। রোকনউদ্দিন বলেন, শুরুতে অনেক গাছ পুরুষ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি। পরে নিজেই কলম তৈরির কৌশল শিখে ভালো ফলন দেওয়া গাছ থেকে নতুন কলম উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তার উৎপাদিত কলম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এক বছরের একটি কলম ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এ বছর বাগান থেকেই প্রতি মণ লটকন ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এরইমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি হয়েছে। ফলের পাশাপাশি কলম বিক্রি থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, রোকনউদ্দিনের কাছ থেকে ১০০টি কলম নিয়েছি। ফলের আকার বড়, স্বাদ ভালো এবং বাজারেও চাহিদা রয়েছে। তাই এই জাতের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, ভালুকার মাটি ও জলবায়ু লটকন চাষের জন্য অনুকূল। উন্নত জাতের কলম উৎপাদনের মাধ্যমে রোকনউদ্দিন অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

ইমামতির পেশা থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা রোকনউদ্দিনের এই সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও পরিশ্রম থাকলে ফলচাষও লাভজনক পেশায় পরিণত হতে পারে। তার বাগান এখন এলাকার অনেক নতুন কৃষকের জন্য অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।