ভারত-আমেরিকা কারও আধিপত্য মেনে নেবো না

বললেন নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এ জাতি ঋণী। বিভিন্ন সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অবদান সেটার স্বীকৃতি এই বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় বঞ্চিত হয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মূল্যবোধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা। দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠন প্রয়োজন। ভিসি নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ যাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ে জগন্নাথ এর অবদান নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বড় ভূমিকা ছিল। আমরা আন্দোলনের বিভিন্ন সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষায় থাকতাম। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারেনি। আমাদের অনেক হতাশা আছে। কিন্তু আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকার এর জন্য। এবার আমরা দুটি ভোট দিয়েছি। কিন্তু এখনও গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হয়নি। আপনারা যারা হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন, প্রথম বার ভোট দিয়েছেন, আপনাদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য। স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির জন্য। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য। আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেবো না, ভারতেরও না, আমেরিকারও না।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এমপি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জগন্নাথ ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।