স্মৃতিশক্তি বাড়ায় যে খাবার
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি যে আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।
তৈলাক্ত মাছ : মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম : ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে।
বেরি জাতীয় ফল : স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়।
অ্যাভোকাডো : পুষ্টিবিদদের মতে এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
কেল (সবুজ শাক) : কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।
সামুদ্রিক শৈবাল : আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
ডার্ক চকোলেট : চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয়। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।
আখরোট : মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামদের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।
হলুদ : রান্নার এ অতি পরিচিত মশলাটি বিষণ্ণতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।
অলিভ অয়েল : অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
নারকেল তেল : নারকেল তেলে উচ্চমাত্রায় এমসিটি থাকে যা মস্তিষ্ককে সরাসরি শক্তি জোগায়। এটি আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় বর্তমানে বেশ সম্ভাবনাময় খাবার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফার্মেন্টেড বা গেঁজানো খাবার : দই বা কিমচির মতো খাবারগুলো আপনার ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
