সুসংবাদ প্রতিদিন

কুষ্টিয়ায় লেবু চাষ করে লাভবান কৃষক

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

দেশে লেবুর আকর্ষণীয় বাজারমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে গ্রামীণ এলাকার পতিত জমি, বাগান এবং বসতবাড়িতে এর চাষ দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, যা কুষ্টিয়ার বহু কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবু চাষ একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে, যা কুষ্টিয়ার কৃষি বিভাগের আওতায় কুষ্টিয়া সদর সহ ছয়টি উপজেলার বহু কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই জেলার প্রায় ৪ হাজার কৃষক ও সাধারণ মানুষ লেবু চাষ করে এবং সারা বছর উৎপাদিত লেবু লাভজনক দামে বিক্রি করে তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। অনেক কৃষক ও সাধারণ মানুষ তাদের বাগান, বসতবাড়ি এবং পতিত জমিতে লেবু চাষ করছেন এবং গৃহপালিত পশুর ক্ষতি থেকে ফসলকে কার্যকরভাবে রক্ষা করার জন্য ফসলের ক্ষেতের চারপাশে জীবন্ত বেড়া হিসাবে লেবু গাছ ব্যবহার করছেন।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, লেবু চাষ অত্যন্ত লাভজনক এবং এর বিপুল চাহিদা ও আকর্ষণীয় দাম কৃষকদের সর্বত্র এর চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত করছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, খোকসা, দৌলতপুর, মিরপুর ও কুমারখালি উপজেলায় কৃষকরা প্রায় ১১ শত হেক্টর জমিতে প্রধানত কাগজি, পাতি, এলাচি, বীজহীন, চায়না এবং জমির জাতের লেবু চাষ করছেন।

কৃষক পর্যায়ে বার্ষিক গড়ে প্রতি পিস ৩ টাকা দরে, এ বছর চাষ করা ৯ লাখেরও বেশি গাছ থেকে লেবুর উৎপাদন ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ কোটি পিস হতে পারে। তবে স্থানীয় খুচরা বাজারগুলোতে এখন আকৃতি, আকার ও জাতভেদে প্রতিটি লেবু ৪ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। পবিত্র রমজান মাসসহ বছরের বিভিন্ন ঋতুতেও প্রতিটি লেবুর দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। উৎপাদিত ১৫ কোটি লেবু ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বাজারে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করবেন, যা কৃষক পর্যায়ের ৪৫ কোটি টাকার দামের চেয়ে অনেক বেশি।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার একতারপুর-বেতবাড়িয়া এলাকার কৃষক অবনি বিশ্বাস এবং মিরপুর উপজেলার আবুল কালাম জানান, তারা লেবু চাষ করে ভালো আয় করছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

অবনি বিশ্বাস বলেন, গাছের বৃদ্ধি এবং ফল-ফুল দেওয়ার জন্য সুষম হারে খাদ্যের প্রয়োজন। গাছের প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ জাতীয় খাদ্য ছাড়াও গাছের নানা ধরনের অনুখাদ্যের প্রয়োজন। এ অনুখাদ্য সময়মত গাছে প্রয়োগ করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য আমরা আমাদের ফসলের ক্ষেতের চারপাশে জীবন্ত বেড়া হিসেবে বেড়ে ওঠা লেবু গাছগুলোকেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করছি।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ অঞ্চলে লেবু চাষ একটি লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যা বহু কৃষক ও সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদেও প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে লেবু চাষ আরও সম্প্রসারণে ডিএই এবং অন্যান্য কৃষি-সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।