সুসংবাদ প্রতিদিন
কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুম্বা খামারি রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমি অঞ্চলের পশু দুম্বা এখন আর শুধু বিদেশের শুষ্ক অঞ্চলের দৃশ্য নয়, দেখা মিলছে কুষ্টিয়ার মাটিতেও। এই অসাধ্যকে সাধ্য করে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বা পালনে সফল এবং সাবলম্বী হচ্ছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাকিকুল।
মহিষ পালন ছেড়ে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন তিনি। গরু ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই রাকিবুলের খামারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ লালন-পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলে মহিষ পালন করা সম্ভব না হলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। পরে তিনি ২০২৩ সালে এক খামার থেকে ২টি দুম্বা কিনে শুরু করেন দুম্বার খামার। অল্প সময়ে পান তার সফলতাও। দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ৩টি দুম্বা দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতারা বেশিরভাগ কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।
শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে ছোটাছুটি করছে স্বাভাবিকভাবেই। নিয়মিত দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধে সব কিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে কম রোগবালাই ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেক অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হচ্ছেন।
খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি আগে মহিষ লালন পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন-পালন করা বন্ধ করে দেই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে ২টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে এখন খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।
তিনি আরও বলেন, এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার। তার সহকর্মী ইমদাদুল হক ইমরান বলেন, “দুম্বা জান্নাতি পশু। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির স্মৃতি বিজড়িত এ পশু। আমিও পরিবার নিয়ে দুম্বা পালন শুরু করতে চাই।’’ সাধারণ ভেড়ার চেয়ে আকারে বড়, আকর্ষণীয় গঠন ও পেছনে ভারী চর্বি থাকার কারণে দেখার জন্য অনেকে রকিবুলের খামারে আসেন। দর্শনার্থী মনিরা জানান, “কখনো দুম্বা কাছ থেকে দেখিনি। হুজুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে আমরা খুব আনন্দিত।’’দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্যোক্তা মিজান জানান, আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বার পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে এই বিদেশি জাতের দুম্বা পালনের। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন পালন সম্ভব। যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণাৎ সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
