হাওরে ক্ষতি কমাতে আগাম জাতের ব্রি-১১৮ ধান বীজ দেওয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবদক
বন্যার ক্ষতি কমাতে হাওরাঞ্চলে আগাম জাতের ব্রি-১১৮ জাতের ধান বীজ সরবরাহ করার কথা বলেছেন কৃষি, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেছেন, ‘বন্যার ক্ষতি কমাতে হাওরাঞ্চলে আগাম ব্রি-১১৮ জাতের ধান অবমুক্ত করা হবে। যে ধান আগে রোপণ করে আগেই ফলন তোলা সম্ভব। তাই আগামী মৌসুমে ৩০ টন বীজ হাওরাঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। পরের মৌসুমে যেন বীজের কোনো সঙ্কট না হয়। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ‘স্যালাইন টলারেন্স’ জাতের ধান অবমুক্ত করা হবে। গতকাল শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত বন্যা ও খরা হচ্ছে জানিয়েছে মন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্ভাবিত ব্রি-১১৮ জাতের ধান শীতল আবহাওয়াতেও সহজে অঙ্কুরোদগম করতে সক্ষম হবে। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা শীতের কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
সেইসঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকরা আরও সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি জমিতে লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধানের বীজ উদ্ভাবনে সরকার কাজ করছে। এসব জাতের ধান লবণাক্ত পরিবেশেও ভালো ফলন দেবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
মৎস্য খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লায় মাছ বাজারজাতকরণকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে একটি স্থায়ী মাছের বাজার অথবা ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি মাছ চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাছের রেণু সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন আমিন উর রশিদ।
আগামী বছরের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে; যা কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়; যাতে প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
এ সময় খামার বাড়ির সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক মো. রওশন আলম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
