যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মিত্রদের হামলার হুমকি ইরানের
* যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার ঢাল হবে তাদের হামলার হুমকি ইরানের * ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের * ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা * ইরান যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে সেসব দেশে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। গতকাল শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়ানের শীর্ষ কমান্ডার এ হুমকি দিয়েছেন।
ইখাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর-জেনারেল আলী আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপ ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যাপক আঞ্চলিক সংঘাত উস্কে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ইরানের আইআরআইবি সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত এক মন্তব্যে আবদুল্লাহি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর বোঝা উচিত যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পদ, অবকাঠামো এবং উপকরণগুলোকে ‘তার দুর্বল হয়ে পড়া সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে’ ব্যবহার করতে চায়।
তিনি বলেন, ওই দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ‘সহযোগিতা ও জোটবদ্ধতা’ পুনর্বিবেচনা করা।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে কাজ করলে তা ‘যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত’ হবে।
প্রসঙ্গত, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানে পুনরায় হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালাচ্ছে ইরান।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের : ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সপ্তাহান্তজুড়েই এ ধরনের হামলা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় সোমবার আর্থিক বাজার খোলার আগেই হামলা শেষ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে দুই দেশ। তবে হামলা কখন শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা : ওমানের লিমা থেকে ১১ সামুদ্রিক মাইল বা প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা ইউকেএমটিও।
গতকাল শনিবার সংস্থাটি জানায় যে এই হামলার ফলে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে, যার ফলে এটি চলতে বা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারছে না।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে এই ঘটনার পর আঞ্চলিক কোস্ট গার্ড বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে যাত্রা করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নথিভুক্ত ও জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প : সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নানামুখী চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছেন।
তাসনিমের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজছেন, যখন তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাচ্ছেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখা এবং আরও সামরিক বিকল্প বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে সৌদি আরব উত্তেজনা হ্রাস এবং সংঘাত অবসানের ওপর জোর দিচ্ছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানের এক অঘোষিত ওয়াশিংটন সফরে তিনি দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা ট্রাম্প ও জে.ডি. ভ্যান্সের কাছে পৌঁছে দেন। ওই বার্তায় রিয়াদ জানায়, তারা ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে চায় এবং সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করে।
এই বৈঠকটি ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের একদিন পর অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়ানোর সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
সিএনএনের মতে, এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট করেছে এবং ট্রাম্পকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যেখানে তিনি সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।
এদিকে ট্রাম্প এখনও একটি সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করে চলেছেন। তবে নেতানিয়াহু এবং সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প বর্তমানে দুটি ভিন্ন পথের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কঠিন সংকটের মুখোমুখি- একদিকে সামরিক চাপ আরও বাড়ানো, অন্যদিকে উত্তেজনা কমানোর পথে অগ্রসর হওয়া।
