স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী যে মরিচ
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

কাঁচা মরিচ শুধু ঝালই বাড়ায় না, এটি ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও ভালো উৎস। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম ও পরিমাণ আয়রন। রান্নার শেষে বা কাঁচা অবস্থায় খেলে এসব পুষ্টি উপাদানের অনেকটাই অক্ষত থাকে। কাঁচা মরিচে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। মৌসুমি সর্দি-কাশি প্রতিরোধেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
খাবারের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খেলে মুখে লালারস নিঃসরণ বাড়ে, যা খাবার সহজে হজম হতে সহায়তা করে। এতে থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে।
কাঁচা মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন শরীরের বিপাকক্রিয়া কিছুটা বাড়াতে পারে। ফলে ক্যালরি খরচের হার বৃদ্ধি পায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত কাঁচা মরিচ খাওয়া উপকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও পরিমিত কাঁচা মরিচ উপকারী হতে পারে, যদিও এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।
ঝাল খাবার খাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
কাঁচা মরিচ শুকিয়ে তৈরি হয় শুকনো মরিচ। শুকানোর সময় এতে থাকা পানির পরিমাণ কমে যায় এবং কিছু পুষ্টি উপাদান নষ্ট হলেও ক্যাপসাইসিনের ঘনত্ব তুলনামূলক বেড়ে যায়। তাই এর ঝাঁজও বেশি অনুভূত হয়।
শুকনো মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং শরীরে উষ্ণতা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। রান্নায় এটি শুধু ঝালই নয়, গাঢ় রং ও আলাদা সুবাসও এনে দেয়, যা খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
যদিও শুকনো মরিচের কিছু উপকারিতা রয়েছে, তবে অতিরিক্ত খেলে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, অম্বল, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এমনকি আলসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এছাড়া শুকানোর সময় কাঁচা মরিচের ভিটামিন সি প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তবে বাজারে পাওয়া অনেক মরিচের গুঁড়ায় কৃত্রিম রং বা ভেজাল উপাদান মেশানো থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে যকৃত ও কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
