ডায়াবেটিস বাড়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

ডায়াবেটিসের সবচেয়ে গুরুতর জটিলতার একটি হলো স্ট্রোক। ডায়াবেটিস রোগীদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি সুস্থ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গ্লুকোজ রক্তনালির ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে সেগুলো সহজেই সংকুচিত ও শক্ত হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেখানে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষ মারা যেতে শুরু করে। এ কারণেই স্ট্রোক সব সময়ই একটি জরুরি অবস্থা। যত বেশি সময় মস্তিষ্ক রক্তবঞ্চিত থাকবে, স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও তত বাড়বে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস সাধারণত একা আসে না। অনেক রোগীরই এর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা কিংবা হৃদ্?রোগও থাকে। এ সবগুলোই আলাদাভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আর একাধিক সমস্যা একসঙ্গে থাকলে স্ট্রোকের পাশাপাশি পুনরায় স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেড়ে যায়।
রক্তে উচ্চ শর্করা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিকেও প্রভাবিত করতে পারে : স্ট্রোকই একমাত্র উদ্বেগের বিষয় নয়। ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে এমনভাবেও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা শুরুতে বোঝা যায় না। বছরের পর বছর রক্তে শর্করা বেশি থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও বাড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।
সময়ের সঙ্গে রোগীর স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভাসকুলার ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে ডায়াবেটিস ও আলঝেইমারের মধ্যে এখনও নিশ্চিত কোনো সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
রক্তে নিম্ন শর্করাও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর : যদিও দীর্ঘমেয়াদে রক্তে উচ্চ শর্করা বেশি উদ্বেগের বিষয়, তবুও রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়াও মস্তিষ্কের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তীব্র হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি এবং অচেতন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এটি শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হলে, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করা জরুরি। লক্ষ্য শুধু রক্তে শর্করা যতটা সম্ভব কমানো নয়; বরং সেটিকে নিরাপদ মাত্রায় রাখা।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ মানেই মস্তিষ্ককেও সুরক্ষিত রাখা : ডায়াবেটিসজনিত স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো রোগটি নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং নির্ধারিত চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করা। তবে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না। রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার করা, মদ্যপান সীমিত রাখা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে।
