জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না

বললেন ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যে জুলাই যোদ্ধাদের কারণে আজকে আপনি সরকার, সেই জুলাই যোদ্ধাদের চোখগুলা কেড়ে নেবেন না, হাত-পা ভাঙবেন না, এক ফোঁটা রক্ত ঝরাবেন না। যদি ঝরান, এটি হবে অবশ্যই চরম নিমকহারামি। যাদের রক্ত, সাহসিকতা, সংগ্রাম, ত্যাগ আজকে বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে এনে দিয়েছে, এটা ভুলবেন না, ভুলার চেষ্টা করবেন না।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংককের হাসপাতালে যাদেরকে দেখে আসলাম, এখনও কারও কারও সারা বডি অবশ হয়ে পড়ে আছে। সেখানকার ডাক্তাররা অলরেডি সার্টিফাই করে দিয়েছে, জীবনে তিনি উঠে আর বসতে পারবেন না। সেই লোকগুলোর কথা কেউ ভাববে না। ক্ষমতা আমাদেরকে এরকম অন্ধ বানায় ফেলবে, দুনিয়ার স্বার্থ সবকিছু ভুলিয়ে দেবে, সব সত্য অবলীলায় শেষ হয়ে যাবে, এটা চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাহসী কাজ যারা হাতে নিয়েছিলেন, তার প্রথম পর্ব যারা আজকে উন্মোচন করার ব্যবস্থা আমাদেরকে করে দিয়েছেন, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আবার অনুরোধ করব, আপনার আমার পছন্দ হোক না হোক, যার যেখানে যে অবদান এটা যেন আড়াল না হয়। এটা যেন আপনাদের কলমে ইতিহাসের পাতায় উঠে আসে। একটি ক্রেডিবল ইতিহাস তৈরি হোক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে একজন ইনোসেন্ট মানুষ যদি মারা যায়, সেটার জন্য গোটা জাতি আমরা কষ্ট পাই, দুঃখ বোধ করি। কিন্তু আফসোস, ৫৫টা বছর চলে গেল, না মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি হলো, না শহিদদের একটি তালিকা তৈরি হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের যেটা আছে সঠিক হোক, বেঠিক কিছুটা আছে। শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা নাই। ৬৫৬ জন নাকি ভাতা পায়, আমি শুনেছি। আশ্চর্য ব্যাপার, আমরা বলে বলছি এত লাখ, এত লাখ, তাহলে এত লাখটা রেকর্ড হচ্ছে না কেন? এটা তো সরকারের দায়িত্ব। এতগুলো সরকার আসলো গেল, সবাই দাবি করেন যে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার, আপনাদেরকে সম্মান করি। এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন? এটা করেন। ইতিহাসটা উঠে আসুক, ওই ফ্যামিলিগুলা গ্লোরিফাই হোক, শহিদের আত্মা শান্তি পাক। ৭১-এর মতো ২৪ যেন হারিয়ে না যায়, এজন্য এই উদ্যোগ আবারও মোবারক। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, এটি তো সরকারি উদ্যোগ নয়, সরকারের দায়িত্ব আছে। আপনারা উদ্যোগ নেন, সঠিক ইতিহাস রচনা করেন।