সুসংবাদ প্রতিদিন

বাহুবলে লতিকচু চাষে কৃষকের সাফল্য

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার শিমুলিয়াম গ্রামের কৃষক এমরান মিয়া। এক সময় যে লতিকচুর আবাদ এ অঞ্চলে খুব একটা দেখা যেত না, সেই লতিকচুই এখন তার জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৩৩ শতক জমিতে বারি-লতিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি এরইমধ্যে বাজারে সাড়া ফেলেছেন। লতিকচুর পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশাবাদী তিনি। সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিজ বাড়ির পাশের জমিতে প্রদর্শনী প্লট হিসেবে এ চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রকল্পের সহায়তা ও উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আধুনিক পদ্ধতিতে লতিকচুর আবাদ করে এমরান মিয়া প্রমাণ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে নতুন জাতের লাভজনক ফসল চাষ করলে অল্প পুঁজিতেও ভালো আয় করা সম্ভব। সরেজমিনে শিমুলিয়াম গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা জমিজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বেড়ে উঠেছে লতিকচুর গাছ। প্রতিদিন ভোর থেকে শ্রমিকদের নিয়ে জমি থেকে লতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি উন্নতমানের চারা উৎপাদন করে স্থানীয় কৃষকদের কাছেও বিক্রি করছেন তিনি। ফলে একই জমি থেকে দ্বিমুখী আয় হচ্ছে।

কৃষক এমরান মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীমের পরামর্শে চলতি বছরের ১৭ মার্চ প্রায় ৩৩ শতক জমিতে বারি-লতিকচু-১ জাতের প্রায় ৪ হাজার চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, চারা সংগ্রহ, সার, সেচ, পরিচর্যা ও অন্যান্য খাতে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। রোপণের প্রায় এক মাস পর থেকেই লতিকচু সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে নিয়মিত লতি বিক্রির পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুরুতে নতুন ফসল হওয়ায় কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারেও এর ভালো চাহিদা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে লতিকচুর চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক কৃষক তার খেত দেখতে আসছেন এবং লতিকচু চাষ সম্পর্কে জানতে চাইছেন। তিনি নিজেও আগ্রহী কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করছেন।