গর্ভাবস্থায় বিমান ভ্রমণের ঝুঁকি

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার ১৪ থেকে ২৮ সপ্তাহ, অর্থাৎ দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক বিমান ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় সকালে বমিভাব ও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেকটাই কমে যায় এবং অকাল প্রসবের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকে গর্ভপাতের ঝুঁকি এবং শেষের দিকে প্রসববেদনা শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকায় দীর্ঘ ভ্রমণে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

সব গর্ভবতী নারীর জন্য বিমান ভ্রমণ সমান নিরাপদ নয়। যে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করা উচিত নয়- যমজ বা একাধিক সন্তান ধারণ। উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্লাম্পসিয়া। যোনিপথে রক্তপাত। প্লাসেন্টার জটিলতা। অকাল প্রসবের পূর্ব ইতিহাস। গুরুতর রক্তশূন্যতা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতা। এ ধরনের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন। অনেক এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট সপ্তাহের পর গর্ভবতী যাত্রীদের জন্য চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ চেয়ে থাকে। এ ছাড়া সঙ্গে রাখুন প্রয়োজনীয় ওষুধ, গর্ভাবস্থার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র, পর্যাপ্ত পানির বোতল, হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার। এছাড়া আরামদায়ক, ঢিলেঢালা পোশাক এবং সমতল জুতা পরলে ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকলে পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। তাই প্রতি ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা পরপর সুযোগ পেলে কিছুক্ষণ হাঁটুন অথবা বসেই পায়ের হালকা ব্যায়াম করুন।

সব সময় সিটবেল্ট ব্যবহার করুন। তবে এটি পেটের ওপর নয়, পেটের নিচ দিয়ে কোমরের হাড়ের ওপর বেঁধে রাখুন। এতে মা ও গর্ভস্থ শিশুর নিরাপত্তা বেশি নিশ্চিত হয়।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বিমানের ভেতরের বাতাস তুলনামূলক শুষ্ক হওয়ায় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করাই ভালো।

যদি চার ঘণ্টার বেশি সময়ের ফ্লাইট হয়, তাহলে কমপ্রেশন স্টকিংস ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন চিকিৎসক। এটি পায়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যালকোহল ও ধূমপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। সম্ভব হলে আইল সিট বেছে নিন। এতে প্রয়োজন হলে সহজে উঠে হাঁটা বা ওয়াশরুমে যাওয়া যায়।

বিভিন্ন এয়ারলাইনসের গর্ভবতী যাত্রীদের জন্য আলাদা নীতিমালা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ৩৬ সপ্তাহের পর একক গর্ভধারণ এবং ৩২ সপ্তাহের পর যমজ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।