নিরাপদ সড়ক নিয়ে সবাইকে সরব দেখতে চান ইলিয়াস কাঞ্চন

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, এ দাবি পূরণে তার অবর্তমানেও যেন সবাই সোচ্চার থাকেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকার জাতীয় নাট্যশালায় নিরাপদ সড়ক চাই‘র মহাসমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘একত্রিশ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করেছিলাম।

‘দীর্ঘ এই পথচলায় আন্দোলনটি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং সারাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’ ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। দিনটি এখন জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালন হয়ে থাকে। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আল্লাহ যাতে আমাকে সুস্থ করে, আবার সবার সঙ্গে আন্দোলনের যোগদানের শক্তি দান করে। আমি দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করি।

‘আমি সরকার, প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরসহ দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষকে এই আন্দোলনের অংশ নিতে বলব।’

দেশের সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষ একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবনরক্ষার সহযোদ্ধা।

‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এটা কারও কোনো ব্যক্তিগত দাবি বা আন্দোলন নয়; এটি মানুষের অধিকারের আন্দোলন। তবে বর্তমান সরকার হিসেবে আমাদের লক্ষ্য- এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে মানুষদের মৌলিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করতে হবে না।

‘জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটা ইনক্লুসিভ সোসাইটি চাই, যেখানে মানুষের ন্যায্য অধিকার থাকবে।’ নিরাপদ সড়ক চাই-এর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে সচেতন যারা আন্দোলন করছেন, নিশ্চয় শুধু নিজের জন্য নয়, বরং অন্য মানুষদের জন্য জীবন রক্ষার জন্য কাজ করছেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলন। ‘আমাদের সরকার সব বিষয়ে প্রান্তিক গ্রাম থেকে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন; আশা করি, সাংবিধানিক নাগরিকের সব অধিকার রাষ্ট্রকাঠামোই পূরণ করবে।’ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।