ধূমপানে ক্যান্সারের ইঙ্গিত
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

ধূমপান যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে, এমন ধারণা অনেকেরই। অথচ প্রতিদিন অতিরিক্ত সিগারেটের ধোঁয়া নীরবে আঘাত হানতে পারে মুখ, জিভ, মাড়ি ও গলাতেও। শুরুতে মুখে ছোট একটি ঘা, গলা ব্যথা বা স্বরের পরিবর্তনের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের কিছু কিছু মুখ ও গলার ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, অল্পবয়সী ও মধ্যবয়সীদের মধ্যেও মুখ ও গলার ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। কারণ শুরুতে যে উপসর্গগুলো দেখা দেয়, সেগুলো সাধারণ অসুস্থতার লক্ষণ বলেই মনে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মুখে ঘা : মুখ বা ঠোঁটে এমন কোনো ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা দুই থেকে তিন সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় ধরে সারবে না। সাধারণ ওষুধ ব্যবহার করেও যদি ক্ষত ভালো না হয়, তবে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জিহ্বায় আলসার : জিহ্বার নিচে বা গোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী আলসার দেখা দিতে পারে। সাধারণ আলসার ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে সেরে গেলেও ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ক্ষত দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। পাশাপাশি জিহ্বা সাদা বা লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। খাবার চিবানো, গিলতে বা কথা বলতে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
মাড়ির সমস্যা : মাড়িতে ফোলা, ফোস্কার মতো ক্ষত, বারবার সংক্রমণ বা রক্তপাত হলে সতর্ক হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি।
কানে অকারণ ব্যথা : এক বা দুই কানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, কিংবা কান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হওয়াও মুখ ও গলার ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দীর্ঘদিনের শুকনো কাশি : দীর্ঘ সময় ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বা দুর্গন্ধযুক্ত কফ বের হওয়া উদ্বেগজনক লক্ষণ।
করণীয় : এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গগুলো যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দেরি না করে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ বা মুখগহ্বরের রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
