বিতর্কের পেছনে ‘শয়তানের’ হাত দেখছেন জামায়াত আমির
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
একের পর এক বিতর্কে জড়ানোর জন্য জামায়াতে ইসলামের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যে সকল কাজে সন্দেহ থাকবে, তা থেকে দূরে থাকা ভালো। কারণ শয়তান আমাদের সংগঠনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এ জন্য একে অন্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ ফেতনার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ গতকাল রোববার গাজীপুরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা-মহানগর আমির ও নায়েবে আমিরদের নিয়ে আয়োজিত কেন্দ্রীয় শিক্ষাশিবিরে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, সংগঠনকে বিতর্কিত করতে যে কোনো ঘটনাকে শতগুণ বাড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে, আল্লাহ চাইলে মোকাবিলা করা যাবে। তার উপরই ভরসা করতে হবে। ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরা মানবিক হলে সংগঠন মানবিক রূপ লাভ করবে। গোটা দেশ মানবিক হয়ে যাবে।’
দলের জেলা আমিরসহ দায়িত্বশীল ও রুকনদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি নিজেদের অবস্থান মূল্যায়নের পরামর্শ দেন। শফিকুর রহমান দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগকে আল্লাহ কবুল করেছেন। আল্লাহ তার ইচ্ছায় সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন দায়িত্বশীলকে তার কাছে তুলে নিয়েছেন। জামায়াত আমির বলেন, ‘শীর্ষ দায়িত্বশীলসহ নেতাকর্মীদের ত্যাগ-কোরবানির প্রেক্ষিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। আমাদের ত্যাগের তুলনায় কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও মিশরের মুসলিমরা আরো বেশি কষ্ট স্বীকার করছেন।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার ‘জুলুমণ্ডনির্যাতনের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর আমরা তিন ঘণ্টার জন্যও বসতে পারিনি। তিনদিনের কাজ আমরা তিন ঘণ্টায় করেছি। অনেক সময় কাজ অসমাপ্ত রেখে বের হয়ে যেতে হয়েছে। এ জন্য বাস্তবতার আলোকে এখন নিজেদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের ঈমানকে মজবুত করতে হবে।” জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদীর প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারতীয় উপমহাদেশে মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী কোরআন ও সুন্নাহর গভীরে প্রবেশ করে উম্মাহর জন্য কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনিই যে সঠিক আর অন্যরা বেঠিক- আমরা তা মনে করি না। দ্বীনের জন্য তিনি সীমাহীন শ্রম দিয়ে গেছেন। তার ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে তিনি বিশ্বে ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।’ দলের নেতাকর্মীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংগঠনের আস্থার জায়গায় কেউ আঘাত দিলে তার দিকে তাকানো হবে না।
সর্বোচ্চ নৈতিক মানে পৌঁছাতে সক্ষম না হলেও, ন্যূনতম নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির হালাল রুজি, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ একটি দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশকে অস্থির করার জন্য দেশটি ২৪ ঘণ্টা পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। আমাদের উত্তেজিত হওয়া যাবে না, ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। দায়িত্বশীলদের বক্তব্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।’ ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবেশীর হক আছে আমরা তা মানি। তবে আমাদের ওপর জুলুম করাকে সহ্য করবো না।’
