পৌর বর্জ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের তাগিদ
বাপার সেমিনারে বক্তারা
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
পৌর বর্জ্যকে কেবল ‘বোঝা’ হিসেবে না দেখে একে সম্পদ, শক্তি ও অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমান সংগ্রহ ও ডাম্পিং নির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর বদলে দেশীয় বিনিয়োগ ও সহজ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই সমাধানের রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাপা সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সেমিনার সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও বাপার আজীবন সদস্য ড. নাসির উদ্দীন খান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূলত সংগ্রহ, পরিবহন ও ডাম্পিং নির্ভর। পুনর্ব্যবহার ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে না লাগানোর ফলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। ফলে মিথেন নির্গমন, নদী দূষণ, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ ও ডেঙ্গুর মত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।’
দেশে চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্জ্যকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য বায়োগ্যাস বা আরডিএফ প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি উপযোগী। অন্যদিকে গ্যাসিবফিকেশন ও প্লাজমা পাইরোলাইসিসের উপযোগিতা খুবই কম। সহজ প্রযুক্তিতে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।’ অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘কঠিন বর্জ্যের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের (ওয়েস্ট টু এনার্জি) জন্য ডিএনসিসি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন তিন হাজার টন ময়লা থেকে ৪২-৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টরা ৩০ একর জমি চেয়েছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘বর্জ্যের সঠিক ব্যবহারের জন্য আমরা একটি দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছি। তবে বাস্তবায়নের জন্য আরো সমীক্ষার প্রয়োজন।’
পানি বিজ্ঞানী ও বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করে বাজারজাত করতে পারলে একদিকে জৈব সারের ঘাটতি পূরণ হবে, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া যাবে।’
সেমিনারে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রধান গবেষক শুভ কিবরিয়া জনগণের উপকারে আসে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান। এছাড়া বাপার কোষাধ্যক্ষ আমিনূর রসুল, যুগ্ম সম্পাদক ড. হালিম দাদ খান, হুমায়ুন কবির সুমন, জাভেদ জাহানসহ কেন্দ্রীয় ও জাতীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
