৯৬৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে কানাডা
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
কানাডা থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৬৮ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দেশভিত্তিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। সিবিএসএর ৩০ জুন পর্যন্ত ‘রিমুভালস ইন প্রোগ্রেস’ তথ্য বলছে, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের বড় অংশই আশ্রয়প্রার্থী। বিভিন্ন দেশের মোট ৪০ হাজার ৮২৭ নাগরিকের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
তালিকার শীর্ষে ভারত। দেশটির ৭ হাজার ৬৬৯ নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো ৬ হাজার ৫৬১, যুক্তরাষ্ট্র ২ হাজার ১৭৯, চীন ১ হাজার ৮৯২ ও নাইজেরিয়া ১ হাজার ৬৪৭ জন। কলম্বিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও চিলির পরই বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশিদের কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বাড়ছে। সিবিএসএর হিসাবে, ২০২০ সালে ৩০৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ফেরত পাঠানো হয়েছে ২২৭ জনকে। একই সময়ে সব দেশ মিলিয়ে কানাডা থেকে সরানো হয়েছে ১০ হাজার ৬০৭ বিদেশি নাগরিককে।
নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভিজিটর ভিসায় গিয়ে আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতাও। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে কানাডায় যাওয়ার পর আশ্রয়ের আবেদন করা ১৭৫ বিদেশির মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি।
শুধু কানাডা নয়, ইউরোপেও বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের হিসাবে, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আবেদনকারীদের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ ছিল বাংলাদেশ। ওই বছর বাংলাদেশিদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আবেদন জমা পড়ে। প্রথম ধাপে সিদ্ধান্ত পাওয়া আবেদনগুলোর স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের দাবি, অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া বিদেশে অবস্থানের ঘটনা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভিসা যাচাই ও আশ্রয় আবেদন নিয়ে উন্নত দেশগুলো আগের তুলনায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।
