দাঁতের মাড়ি ঠিক রাখা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে সামান্য রক্ত বের হলে অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেন। কেউ ভাবেন, শক্ত ব্রাশ করার কারণেই এমন হয়েছে, আবার কেউ মনে করেন শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত দাঁতব্রাশ বা ফ্লস করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া একেবারেই উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। এটি মাড়িতে প্রদাহ বা পিরিয়ডন্টাল ডিজিজের লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিন মাড়ির সমস্যা থাকলে শুধু দাঁত ও মাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে কেন : দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে নিয়মিত প্লাক জমতে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এই প্লাক শক্ত হয়ে টারটার তৈরি করতে পারে। ফলে মাড়িতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। মাড়ি লাল বা ফুলে যাওয়া, ব্রাশ করার সময় রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ এবং পরে দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই মাড়ি থেকে বারবার রক্ত পড়াকে শুধু ‘মাড়ি দুর্বল’ হওয়ার লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

মাড়ির রোগের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক : মাড়িতে দীর্ঘদিন প্রদাহ থাকলে মুখের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দিয়ে কিছু ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১২ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও মাড়ির রোগ ও হৃদ?রোগের মধ্যকার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা প্রকাশ করেছিল। পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির রোগের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের ছন্দের সমস্যা এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের আরও একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির রোগ থেকে হৃদযন্ত্রের স্পন্দনজনিত সমস্যা এবং হার্ট ফে ফেইলিউরের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ছাড়া পিরিয়ডন্টাল ডিজিজের সঙ্গে হৃদ্?যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন, এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। তবে মাড়ির রোগ সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় না। বরং মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, সংক্রমণ এবং হৃদ্?রোগের অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে যা করবেন : দিনে অন্তত ২বার ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁতব্রাশ করা মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার অন্যতম সহজ উপায়। খুব জোরে ব্রাশ না করে নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার ও প্লাক পরিষ্কার করতে নিয়মিত ফ্লস বা অন্য উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ক্লিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু ব্রাশ করলেই দাঁতের সব অংশ পরিষ্কার হয় না।