মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক রেডস্ক
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করার পর এ সাজা দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার ইসলামপন্থী নেতা আহমেদ আল-শারার (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে দেশটির বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদ সরকারকে উচ্ছেদ করার সময় তৎকালীন এ প্রেসিডেন্ট পালিয়ে রাশিয়ায় চলে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আদালত বলেছেন, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল-আসাদ সরকারের সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, আরব বসন্তে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে স্বৈরশাসকদের পতন ঘটেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি টিকে গিয়েছিলেন। তিনি তার নৃশংস স্বৈরশাসন চালিয়ে যান আরও এক যুগের বেশি। তবে আরব বসন্তের ১৩ বছরের মাথায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতন ঘটে নাটকীয়ভাবে। তার পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসন শুরু হয়েছিল গত শতকের সত্তরের দশকে। বাশার আল-আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের হাত ধরে। হাফিজ আল-আসাদ ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০০ সালে তার মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর সিরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বাশার আল-আসাদ।
ক্ষমতার প্রথম দিকে বাশার আল-আসাদ সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগী হন। বাবার ২৯ বছরের শাসনামলের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা তিনি শিথিল করেন। কিন্তু পরে সংস্কারকের ভূমিকা থেকে বাবা হাফিজ আল-আসাদের মতোই একজন কর্তৃত্ববাদী ‘স্বৈরশাসকে’ পরিণত হন।
সিরিয়ায় আরব বসন্তের ঢেউ লাগে ২০১১ সালের মার্চে। দেশটিতে শুরু হয় বাশার আল-আসাদবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে সহিংস উপায় বেছে নেন বাশার। সিরিয়াজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। এ লড়াইয়ে একের পর এক এলাকা বাশার আল-আসাদ সরকারের হাতছাড়া হয়।
সিরিয়া সংকটে জড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তি। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরান বাশার আল-আসাদের পক্ষ নিয়ে তাকে রক্ষায় সামরিক শক্তি নিয়োগ করে। লেবাননের ইরানপন্থী প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও সক্রিয়ভাবে বাশার আল-আসাদের পাশে দাঁড়ায়।
মিত্রদের সামরিক সহায়তা নিয়ে ২০২০ সাল নাগাদ আলেপ্পোসহ সিরিয়ার মূল শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান বাশার আল-আসাদ। তখন থেকে সিরিয়ার সিংহভাগ এলাকায় চলছিল বাশার আল-আসাদের শাসন। তবে দেশটিতে সংঘাত, রক্তপাত পুরোপুরি থেমে থাকেনি।
সিরিয়ায় প্রায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। গৃহযুদ্ধে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়ে সিরিয়া। কিন্তু এদিকে সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ না করে বাশার আল-আসাদ তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ব্যস্ত থাকেন।
