ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে

বললেন রিজভী

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে, অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত- শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাকে মুছে ফেলার একটা খুব গভীর চক্রান্তের প্রচেষ্টা চলছে।

গতকাল বুধবার সকালে বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এদিন রিজভীর নেতৃত্বে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ করেন। আরাফাত রহমান কোকোর পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বন্দিনী মা—বালির ট্রাক, কাঠের ট্রাক দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে তার চোখে গোল মরিচের স্প্রে করা হয়েছে। তার চোখে ক্ষত ছিল। উনার চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠিক ওই মুহূর্তে গোল মরিচের স্প্রে করে তাকে আরও বেশি অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তাকে কোলে নিতে হয়েছে। এই হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক মিল আছে বলে আমার মনে নেই। এই মর্মান্তিক ঘটনা সমস্ত বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে।

এটি একজন অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসকের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ছিল মন্তব্য করে রিজভী আরও বলেন, একটি পরিবারকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করার জন্য, জনগণের মধ্যে তার (খালেদা জিয়া) যে উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তা, সেটিকে মুছে দেওয়ার জন্য এমন কোনো কৌশল নেই, যেটা করেননি সাবেক পলাতক স্বৈরাচারিনী।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। জিয়াউর রহমান এ দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানসহ বন্দি। তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই যা করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নেই- না তার পিতার, তার না নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?

রিজভী আরও বলেন, তার এ দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাস্ত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে।