ফুচকা-চটপটি থেকে সংক্রমণ
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

বর্তমানে স্ট্রিট ফুডপ্রেমী মানুষের অন্ত নেই। বড় বড় রেস্তোরাঁর খাবারের চেয়ে রাস্তার পাশে তৈরি ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি কিংবা নানা ধরনের মুখরোচক খাবারই অনেকের বেশি পছন্দ। তবে খাবার যতই সুস্বাদু হোক, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি বা সংরক্ষণ করা খাবার থেকে নানা ধরনের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিগেলা ব্যাকটেরিয়া, যা অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে অসুস্থ করে তুলতে পারে।
শিগেলা হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ সংক্রমণকে বলা হয় শিগেলোসিস। সাধারণত দূষিত খাবার বা পানি এবং অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে এ ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে।
ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও জ্বর। কিছু ক্ষেত্রে পায়খানায় রক্ত বা শ্লেষ্মা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
যেভাবে ছড়ায় শিগেলা : শিগেলা মূলত মল-মুখ পথে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির মল থেকে জীবাণু হাত, খাবার, পানি কিংবা বিভিন্ন জিনিসের মাধ্যমে অন্যের শরীরে যেতে পারে। অপরিষ্কার হাত, দূষিত পানি, ঠিকমতো রান্না না করা খাবার এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদেরও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন : পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা শিগেলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ডায়রিয়ার কারণে তাদের শরীরে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদেরও গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
লক্ষণ : শিগেলা সংক্রমণে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, পেটে মোচড় বা ব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। পায়খানায় রক্ত বা শ্লেষ্মা দেখা দিলে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিশু বারবার পায়খানা করছে, পানি বা খাবার রাখতে পারছে না, অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়ছে কিংবা জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথা বাড়ছে- এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
