লোডশেডিংয়ে ধস নেমেছে সরু চাল উৎপাদনে
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কবলে উৎপাদন সংকটে পড়েছে সরু চালের সর্ববৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকলগুলো। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়াও উৎপাদিত চালের বড় একটা অংশ খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন মিলাররা, অন্যদিকে এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে চালের দামেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে খাজানগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বেশিরভাগ মিলের শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। বন্ধ রয়েছে উৎপাদন। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় থাকা মিলগুলো বেশি সংকটে পড়েছে।
খাজানগরের পার্শ্ববর্তী বল্লভপুর অবস্থিত এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চালকল স্বর্ণা অটোরাইস মিলের কর্ণধার আব্দুস সামাদ বলেন, শ্রমিকরা বিদ্যুৎ বন্ধ দেখে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। বেতন তাদের ঠিকই দিতে হচ্ছে কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, মিলে প্রতিদিনের উৎপাদন ছিল প্রায় ৯০ টন চাল। সেখানে তেল পুড়িয়েও ৩০ টনের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আর ডিজেল পুড়িয়ে উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়েছে।
চাল উৎপাদনে এ অঞ্চলের আরেক সুমানধন্য প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন রাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, উৎপাদনের সময় যখন ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকে বা বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের আওতায় চলে যায়, তখন মেশিনে অর্থাৎ প্রোডাকশনে থাকে যে প্রোডাক্টগুলো (ধান) সেগুলো প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। এজন্য বাই প্রোডাক্ট বেড়ে যাচ্ছে। তাতে চালের উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে।
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি উভয়ের শিল্প ফিডার আলাদা আছে। শিল্প ফিডারে বিশেষ করে খাদ্য সংশ্লিষ্ট শিল্পতে বিদ্যুৎ সরবরাহটা যেন নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়, এ ব্যাপারে তারা যেন পদক্ষেপ নেয়। সরেজমিন দেখা যায়, একজন ট্রাক চালক বসে ঝিমোচ্ছেন। তিনি ধান নিয়ে এসেছেন নওগাঁ থেকে। জানতে চাইলে ওই চালক বলেন, ৯ দিন ধরে বসা আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রডাকশন হচ্ছে না, ট্রিপও হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট। গত দুয়েক সপ্তাহ ধরে চাহিদার বিপরীতে ৪০ কিংবা ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। বুধবার সন্ধ্যায় ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম। তবে এ অবস্থা কতদিন থাকবে তা জানা নেই।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, চালকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে মিটিং করেছি। আশা করছি, দ্রুতই সমাধান দিতে পারব। চালের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
