ডেঙ্গুতে শক্তি ফেরাতে খাদ্য

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

মৌসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়তে শুরু করে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। প্রবল জ্বর, শরীর ও মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং অরুচির কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেকেরই খাওয়া-দাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়ে। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই। জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল এবং শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স (পর্যাপ্ত তরল) গ্রহণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা হয়। সঠিক সময় সঠিক খাবার দেওয়া গেলে ডিহাইড্রেশনের (পানিশূন্যতা) ঝুঁকি কমার পাশাপাশি দ্রুত শারীরিক শক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব।

ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হলো প্লাজমা লিকেজ ও পানিশূন্যতা। ফলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও প্লাজমা বেরিয়ে গিয়ে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। তাই এই সময়ে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন অত্যন্ত কার্যকরী।

ডেঙ্গুর সময় অরুচি থাকায় ভারী খাবার খেতে অনেকেরই কষ্ট হয়। এ সময় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ তাজা ফল যেমন- কমলা, মাল্টা বা লেবুর রস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি না মেশানোই ভালো। এর পাশাপাশি পাকা পেঁপে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কলা দ্রুত শক্তি জোগায়। ?পাতলা স্যুপ ও ডালের পানিও ডেঙ্গু রোগীর জন্য খুব উপকারী।

মুরগির পাতলা স্যুপ, সবজির স্যুপ বা মুসুর ডালের পানি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেটেড করে এবং প্রোটিনের চাহিদা মেটায়।

?জ্বরের কারণে পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এসময়ে কঠিন বা ভারী খাবার হজম করা কঠিন। তাই রোগীকে দেওয়া যেতে পারে জাও ভাত ও পাতলা খিচুড়ি। চাল, মুগ ডাল ও বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি বা জাও ভাত সহজে হজম হয় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়- প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন সেদ্ধ ডিম এবং হালকা মসলায় রান্না করা ছোট মাছ বা মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল পাতে রাখা উচিত।

?রক্তে অনুচক্রিকা (প্লেটলেট) ঠিক রাখতে এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার বিশেষ ভূমিকা রাখে।ডালিম ও বেদানায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তের হিমোগ্লোবিন ও শক্তির মাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ?সবুজ শাকসবজি যেমন- পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া ও ব্রোকলিতে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন খনিজ শরীরের রক্তকণিকা তৈরিতে ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে ভুল খাবার অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই খাদ্যতালিকা তৈরির সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ?গাঢ় লাল বা কালো রঙের খাবারে ডেঙ্গু রোগীর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। তাই বিট, চকলেট বা কৃত্রিম লাল রঙের জুস এড়িয়ে চলাই ভালো, না হলে বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে কি না তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ডেঙ্গুর সময় বমি বমি ভাব ও অরুচি থাকলে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার অস্বস্তি বাড়াতে পারে। ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত ঝাল এবং ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।