সুসংবাদ প্রতিদিন

কুষ্টিয়ায় গ্রীষ্মকালীন বেগুনের ফলনে খুশি কৃষক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম.আরিফ, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কৃষকরা রবি শস্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষে কৃষকরা বেগুন খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গতকাল রোববার মিরপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শৈলেন কুমার পাল বলেন, চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন ও প্রথম দিকে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা তাদের ক্ষেতের অর্জিত বেগুনের ভাল দাম পাওয়ায় এবং বেগুন বিক্রি করতে কোন ধরনের ঝামেলা না থাকায়, কৃষকেরা স্বস্তিতে রয়েছেন। তাদের অর্জিত ক্ষেত থেকে প্রতিদিন পাইকাররা নিজে এসে বেগুন ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। জেলার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের কৃষক হাসান আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, অধিক লাভের আশায় গত দু’বছর থেকে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও পরামর্শে আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষ করেন মিরপুর উপজেলার অনেক কৃষক। গ্রীষ্মকালীন অধিক ফলনশীল ও উন্নত আগাম জাতের বেগুন চাষে বেশ লাভবান হয়। তবে চলতি বছর হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ কীটনাশক ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং পাইকারি বাজারে বেগুনের আমদানি বেশি থাকায়, দাম আগের মতো চাষিরা পাচ্ছে না। তাদের বেগুনের দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন। তারপরও বেগুন চাষিরা হতাশা হয়নি। তারা মনে করছেন বেগুনের দাম এভাবে কম-বেশি হলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না। হয়তো গত বছর তুলনায় এবার কিছুটা মনাফা কম হতে পারে। কারণ, এবারে গ্রীষ্মকালীন বেগুনচাষি কৃষকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে বাজারে বেগুনের আমদানি বাড়ছে। বেগুন চাষিরা বলছেন, প্রথম দিকে খেত থেকে বেগুন দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা মণ ধরে বেগুন বিক্রি করেছে। গত কয়েক দিন ধরে বেগুনের দাম কমিয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বর্গাচাষি মমিনুর রহমান বলেন, এবার দুই বিঘা জমি ১ বছরের জন্য ৩২ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষ করেছি। প্রতি বছর বেগুন চাষ করে যথেষ্ট লাভ হয়েছি। এ বছর হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, সার কীটনাশক ওষুধসহ দিন মজুরের মূল্য বাড়ায় বেগুন চাষে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। তারপরেও আমরা অর্জিত বেগুনের ফলনে লাভবান হবো বলল আশা করছি। এদিকে গত এক সপ্তাহ আগে বেগুনের মূল্য দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাক মণ দরে বিক্রি করে ছিলাম। এ সপ্তাহে বেগুনের দাম কমে ১১০০ থেকে সাড়ে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। বেগুনের ফলন ভালো থাকায় হয়তো মুনাফা কিছুটা কম হব। তারপরেও বেগুনচাষিরা লাভের আশা দেখবে বলে তিনি আশা করছেন। আগামী বাংলা আশ্বিন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন বেগুন বাজারজাত করতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন। সেভাবেই তাদের বেগুন খেত খেতে ফলন আহরণে পরিচর্যা করছেন।