ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আসছেন যারা, যেকোনো সময় ঘোষণা
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আমিরুল ইসলাম অমর
মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম-বিশেষ করে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ও পরীক্ষিত ভূমিকা বিবেচনা করে নতুন ছাত্র নেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের এই কমিটি। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। শেষ মুহূর্তে পদপ্রত্যাশীদের লবিং তদবির বেড়েছে কয়েকগুণ। পদপ্রত্যাশীরা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড ও দলের জন্য ভূমিকা তুলে ধরছেন। কমিটিতে যথাযথ স্থানে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আসন্ন এই কমিটিতে শেষ সময়ে এসে শীর্ষ পদগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা। এদিকে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিতে কারা আসছেন তা জানার অপেক্ষায় সংগঠনটির হাজার হাজার নেতাকর্মী। এবারের কমিটিতেও নবীন প্রবীণের সমন্বয় ঘটতে পারে; তথা একঝাঁক নতুন মুখ যেমন আসবে, তেমনি আগে কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলে নেতৃত্বে ছিলেন এমন নেতাদেরও প্রাধান্য থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এমন আভাসই দিয়েছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রধান এই তিন পদ ঘিরে চলছে নেতাদের শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ। একই সঙ্গে ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটিও। নতুন পদপ্রত্যাশী নেতারা ঢাবি ক্যাম্পাসে মিছিল-পদযাত্রার মাধ্যমে নিজেদের সক্রিয়তার পরিচয় দিচ্ছেন। সূত্রমতে, নতুন কমিটির একটি খসড়া প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যেকোনো সময় এই কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত শুক্রবার তিনি জানান, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তার কাছে এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতার বিদায়ী সাক্ষাৎ নতুন কমিটি ঘোষণার জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাক্ষাতের পর বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা দেন। ফলে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির নেতৃত্বপর্ব কার্যত শেষ হয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রমতে, বিদায়ী সাক্ষাতে সাম্প্রতিক সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের ভূমিকা, সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং মূল দলের রাজনীতিতে বিদায়ী নেতাদের সম্পৃক্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ভূমিকার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের পরবর্তী ধাপে নিয়ে গিয়ে নতুনদের নেতৃত্বে সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিদায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে তোমরা অসামান্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছ। রাজপথের এই লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে, নিয়মানুযায়ী এখন ছাত্রদলে তোমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে, এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।
সাক্ষাতে বিদায়ী নেতারাও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্যের কথা জানান। ভবিষ্যতে দল যে দায়িত্ব দেবে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াকে সিনিয়র সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এরপর ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।
