পাঁচ অভ্যাসে লিভারের সমস্যা
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে অনেকেই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ রোগ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লিভারে প্রদাহ, সিরোসিস এমনকি লিভার বিকলের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আজই বদলে ফেলা জরুরি।
অতিরিক্ত চিনি : চিনি লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রুগুলোর একটি। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমাতে সাহায্য করে। এ অতিরিক্ত চর্বির একটি বড় অংশ লিভারে জমে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন অতিরিক্ত ময়দার খাবারও লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তেলে ভাজা ও রেড মিট : ভাজাপোড়া খাবার অতিরিক্ত রেড মিটে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমে, প্রদাহ তৈরি হয় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমে গিয়ে খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ : জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীরব্যথা হলেই অনেকেই নিয়মিত পেইনকিলার খেয়ে ফেলেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে লিভারের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে অনেক হার্বাল সাপ্লিমেন্টও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া : রাতে আমরা বিশ্রামে থাকলেও লিভার তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম লিভারের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কম পানি পান করা : পর্যাপ্ত পানি শরীরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং লিভারের স্বাভাবিক কাজ সহজ করে। পানি কম খেলে শুধু লিভার নয়, কিডনির কাজও ব্যাহত হতে পারে। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। লিভারের যত্নে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সবুজ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ওটস, ব্রাউন রাইস, ডাল, বাদাম, অলিভ অয়েল এবং চর্বিহীন মাছ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও কমে।
