কলকাতায় হোটেলে আগুন
পাঁচ বাংলাদেশি নিহত
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে একটি অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে যে পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে, তাদের চারজনই কুষ্টিয়ার একই পরিবারের। কলকাতা পুলিশের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন। এদিকে, কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ বলেছেন, নিহত আরও তিনজন বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিতে পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন তারা।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া সদরের আরুয়াপাড়া মোহিনী মিল এলাকার দেবাশীষ দত্ত (৩৯) ও তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের সন্তান শর্ণশিষ দত্ত (৩) এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর কুষ্টিয়া সদরের থানা পাড়ার আকরাম আলী (৬৪)। নিহত আরেকজন ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে আহমেদ বাবু (৩)। নিহত দেবাশীষ দত্ত ছিলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের পারিবারিক বন্ধু ও দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান বলেছেন, ‘গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চেন্নাই যান দেবাশীষ। তাদের সঙ্গে কুষ্টিয়ার আরও দুইজন গিয়েছিলেন। সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে এয়ারে কলকাতায় আসেন তারা।
‘সেখানে একটি হোটেলে উঠেছিলেন তারা। সারাদিন ঘুরেছেন। আজকে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম সেই হোটেলে আগুন লেগে তাদের তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে।’ গতকাল বুধবার বেলা ৩টার দিকে ফোনে কথা বলার সময় দেবাশীষের কুষ্টিয়ার বাড়িতে ছিলেন তৌহিদী। স্বজন, বন্ধুদের কান্নার রোল উঠেছে সেখানে।
এদিকে, নিহত বাংলাদেশিদের লাশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মিশন কলকাতায় যারা নিহত হয়েছেন সেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশে।’
‘তাদের শনাক্তকরণ শেষ হলে এবং সব ফরম্যালিটিজ কমপ্লিট হলে দ্রুততম সময়ে এই লাশগুলো আমরা যেন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারি, সেই কাজটি আমাদের কলকাতার মিশন করছে।’
ফেরত আনার খরচের বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এখানে কোনো শ্রমিক নাই বা প্রবাসী কল্যাণের হয়তো খুব একটা ওখানে ভূমিকা নেই। তাও যদি এখানে ওই যারা দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের পরিবার যদি খরচ বহন করতে না পারেন, তাহলে অবশ্যই সরকার সেটা দেখবে।’ তাদের মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে ডেপুটি হাইকমিশনার বলেছেন, সাধারণত কলকাতায় কেউ মারা গেলে সব প্রক্রিয়া শেষ করে সড়কপথে লাশ পাঠানো হয়। লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানেই যায়। পাঠানোর কাজটা আমরা করি এবং এখানেও করব।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, গত মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই প্রথমে জানিয়েছিল, নিহত ৯ জনের সবাই বাংলাদেশি। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সেই তথ্য সংশোধন করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, নিহত একজনকে ভারতে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আর আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, নিহতদের ‘অধিকাংশিই’ বাংলাদেশি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, ‘কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি বলে আমরা শুনেছি। এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনও বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’ পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদপত্র/মিডিয়াসূত্রে জানা গিয়েছে। এ খবর জানার সাথেসাথেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করার চেষ্টা করেছেন।
‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, এ যাবৎ এ অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপ-হাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনই এক পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি। এছাড়াও আহত ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশিদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিতে উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্প লাইন চালু করেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
