ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াতে সুপারিশ সিপিডির
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসার এবং চীনা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করতে ব্লেন্ডেড গ্রিন ফাইন্যান্সিং, দ্রুত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং ক্লাস্টারভিত্তিক বিনিয়োগ মডেল চালুর সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন অডিটোরিয়ামে পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরাম আয়োজিত ‘শিল্প খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহমেদ ভূঁইয়া এবং প্রোগ্রাম সহযোগী নূর ইয়ানা জান্নাত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়, আইডকলসহ অন্যান্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান যেন মিশ্র সবুজ অর্থায়ন সুবিধা চালু করে। এর মাধ্যমে ৫ থেকে ৭ শতাংশ সুদে স্বল্পসুদী ঋণ এবং চীনা সবুজ বিনিয়োগ মূলধনের সমন্বয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণের মেয়াদ বাড়ানো ও প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর জন্য গবেষণায় একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ডেস্ক গঠন এবং যাচাইকৃত চীনা ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বকারী সদস্য কারখানাগুলোর জন্য প্রণোদনা দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-কে নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে ছোট ও মাঝারি নিটওয়্যার কারখানাগুলোকে একত্র করে ক্লাস্টারভিত্তিক বিনিয়োগ মডেল তৈরির মাধ্যমে চীনা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সেবা কোম্পানি (রেস্কো) বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় কারখানা ব্যবস্থাপনাকে প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রাথমিক মূলধন ব্যয় কমানো যায় এবং ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
এছাড়া ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য ইপিসি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত রেস্কো এবং বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওওটি) অর্থায়ন মডেল তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-এর মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও পূর্বানুমেয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গবেষণায় শিল্প সংগঠনগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণে পিছিয়ে থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এরইমধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী কারখানা, বিশেষ করে চীনা কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে আনুমানিক ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট-পিক (এমডব্লিউপি) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার জন্য প্রায় ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। এতে আরও বলা হয়, ১ হাজার ১৬টি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭৯ মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের স্বল্পমেয়াদি সুযোগ রয়েছে।
গবেষণায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নির্ধারণে অর্থায়ন ব্যবস্থাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মূলধন ব্যয়, বিদ্যুতের মূল্য, সুদের হার এবং ঋণের মেয়াদ প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। গবেষণায় আরও বলা হয়, ব্যাংক ঋণযোগ্যতার জন্য প্রয়োজনীয় ১ দশমিক ২৫ গুণ ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা (ডেট সার্ভিস কভারেজ রেশিও) অর্জনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এতে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়, স্রেডার অনুমোদনে বিলম্ব, পুরোনো কারখানা ভবনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আমদানি ও ঋণপত্র (এলসি) ব্যয়, অর্থ পরিশোধ ও বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি এবং গ্রিড সংযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, জরিপ করা আরএমজি কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। যদিও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এসব কারখানার বিদ্যুতের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করা সম্ভব।
