বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ
১৬ বছর ধরে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা আলো ফিরে পেয়েছেন হাজারো মানুষ
শুক্রবারের বিশেষ খবর
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
গাজী মুনছুর আজিজ

চোখের আলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। অথচ অর্থের অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা করাতে পারেন না। বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য চোখের চিকিৎসা অনেক সময় হয়ে ওঠে দুরূহ। এমন বাস্তবতায় গত ১৬ বছর ধরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার চক্ষু রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হয়েছে।
২০১০ সালে চক্ষু চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবে অসহায়, দরিদ্র ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। প্রতি মাসে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জে বসে তাদের চক্ষু চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির এ মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি ও চক্ষু হাসপাতাল, কুমিল্লা। তাদের সহযোগিতায় জটিল ও ছানি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক মানুষ বিনা খরচে ফিরে পাচ্ছেন চোখের দৃষ্টি।
ইলিয়টগঞ্জের এ সেবা ক্যাম্প শুধু দাউদকান্দির মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দাউদকান্দি ছাড়াও মুরাদনগর, চান্দিনা, দেবিদ্বার, কচুয়া ও তিতাস উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এ ক্যাম্পে এসে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। বয়স, পেশা কিংবা আর্থিক অবস্থার কোনো পার্থক্য না করে সব শ্রেণির চক্ষু রোগীকেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে এ চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে ছানি অপারেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া রোগীদের কাছে এ উদ্যোগ যেন নতুন জীবনের সমান। অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা নিতে পারতেন না, তাদের জন্য ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে আশার আলো।
বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এস এম মিজান বলেন, আমরা মানুষের চোখের চিকিৎসাসেবা দিতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি। আমরা এ মানবিক দায়বদ্ধতার কাজকে আরও প্রসারিত করতে চাই।
তিনি জানান, শুধু অর্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর না করে সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিটি সেবাক্যাম্পে কাজ করেন। রোগীদের নিবন্ধন, চিকিৎসকদের সহযোগিতা, রোগীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করেন।
মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ এখন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ১৬ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলা এ কার্যক্রম প্রমাণ করছে- সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে সীমিত সামর্থ্য দিয়েও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
চোখের চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন শুধু চিকিৎসাই দিচ্ছে না, বরং অসংখ্য মানুষের জীবনে ফিরিয়ে দিচ্ছে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার আত্মবিশ্বাস। আগামী দিনগুলোতে এ সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় সংগঠনটি।
