সুসংবাদ প্রতিদিন
পার্বতীপুরে ছাগল পালনের সফলতার গল্প
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার চাকবাগুলিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রীর সমন্বিত খামারটি এখন সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রায় ছয়-সাত বছর আগে মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকায় একটি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল কিনে তারা এই খামারের যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাদের খামারে ১০০টিরও বেশি ছাগল রয়েছে। মনিরুজ্জামানপার্বতীপুরের একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় তার স্ত্রী মূলত দিনের বেলায় ছাগল দেখাশোনা করেন, আর তিনি সকালে ও সন্ধ্যায় সহায়তা করেন।
বর্তমানে খামারে ১০০টিরও বেশি ছাগল রয়েছে। এই বছর প্রায় ২৫টি ছাগল বিক্রি হয়েছে। তারা ব্ল্যাক বেঙ্গল দিয়ে শুরু করলেও এখন বিভিন্ন সংকর জাতের ছাগল পালন করছেন, যা ভালো দুধ উৎপাদন এবং সুস্থ বাচ্চা দেওয়ার উপর জোর দেয়। কিছু মা ছাগল একবারে তিনটি বাচ্চা দেয়। একটি নির্দিষ্ট মা ছাগল এ পর্যন্ত ২৭টি বাচ্চা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা প্রজননের জন্য অন্যের পুরুষ ছাগল ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন তাদের নিজস্ব প্রজননক্ষম পুরুষ ছাগল রয়েছে, যা তাদের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। একটি ছাগলের জন্য প্রায় ২ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন তিনবার (সকাল, দুপুর, রাত) ছাগলদের খাবার দেওয়া হয় এবং তাদের থাকার ও খাওয়ার জায়গা পরিষ্কার করা হয়।
একটি ছাগল প্রতিদিন প্রায় ২০ টাকার খাবার খায়। মালিক জোর দিয়ে বলেন যে, যদি ঘাস পাওয়া যায়, তবে খুব বেশি অন্য খাবারের প্রয়োজন হয় না, শুধু সামান্য পরিপূরক খাবারই যথেষ্ট। তারা প্রতি তিন মাস অন্তর পিপিআর ভ্যাকসিন এবং কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। কৃমিনাশকের পর জিঙ্ক দেওয়া হয় যাতে তাদের লোম স্বাস্থ্যকর থাকে। প্রতিটি মা ছাগল বছরে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা লাভ দিতে পারে। বর্তমানে প্রায় ৫০টি ছাগল বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মাংসের জন্য পুরুষ ছাগল প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। বড় আকারের তরুণ ছাগলের দাম ১০ হাজার টাকা। খাসি ছাগল ১০ কেজি ওজনে পৌঁছালে বিক্রি করা হয়। মনিরুজ্জামান তার ছাগলগুলোকে নিজের সন্তানের মতো মনে করেন এবং প্রতিটি ছাগলের ডাক শুনেই তাদের চিনতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, প্রাণীদের ভালোবাসলে তাদের উন্নতি হয়, মানুষের মতো তারা প্রতারণা করে না।
