মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা
হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পেছাল
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে সোমবার ধার্য করেছে হাই কোর্ট।
রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ রায়ের এই নতুন দিন ঠিক করে দেয়।
আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। তিনি দেশের বাইরে আছেন। এ কারণে আমরা সময় চাচ্ছি।’ এরপর আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের জন্য সোমবার দিন ধার্য করে।
এ মামলায় হাই কোর্টের নিয়োগ দেওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের রায় মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল সম্ভবত রায়ের দিন উপস্থিত থাকবেন, তাই তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে তিনি হিটু শেখের খালাস চেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ১১ অগাস্ট হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর ১৩ অগাস্ট শুনানিতে আসামির নিজস্ব আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেয় হাই কোর্ট। ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার অপর তিন আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের পর হিটু শেখ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটির ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য মামলার নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। ছাপার কাজ শেষে গত জুনে পেপারবুক হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের ওই শিশু। ওইদিন তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৮ মার্চ তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর ওই মামলায় হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয়। ২৩ এপ্রিল হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় এবং অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মাত্র কয়েকদিনের বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ওই বছরের ১৭ মে ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করে।
