আ. লীগ সংশ্লিষ্ট সেমিনার বন্ধ করল দিল্লি পুলিশ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব বা এফসিসি জানিয়েছে, তাদের একটি অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে| গত শনিবার এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি| অনুষ্ঠানের নাম ছিল 'ইউরোপ ও এশিয়া, সংলাপ থেকে অংশীদারত্বের দিকে'| দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় এটি বাতিল করতে হয়|

এই অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব হলো, এখানে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল| দশ সদস্যের প্যানেলে আরও ছিলেন চেক রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেই দস্তাল, জার্মান কূটনীতিক পিটার ফারেনহোলৎস, বাংলাদেশি-মার্কিন বিজ্ঞানী নুরুন নবী, নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ, সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ডের মহাসচিব গোলাম জিলানি|

এফসিসির পাঠানো আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, এই আয়োজনটি ছিল একটি সেমিনার এবং সংবাদ সম্মেলনের মিশ্র রূপ| বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে এটি আয়োজন করা হয়েছিল|

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য প্রিন্টকে এফসিসির একজন সদস্য বলেন, 'শুক্রবার সন্ধ্যায় আমাদের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী এফসিসি ব্যবস্থাপনা দলের একজন সদস্য তিলক মার্গ থানায় যান| তিনি অনুষ্ঠানের অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আবেদন করেন|'

এরপর এফসিসির ব্যবস্থাপনা দল থানার কর্মকর্তাকে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য জানায়| ওই সদস্য বলেন, 'এরপর আমাদের জানানো হয়, দিল্লি পুলিশ স্পষ্টভাবে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে|'

এরপর এফসিসি তাদের সদস্যদের একটি নোটিশ পাঠায়| সেখানে জানানো হয়, দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়ে গেছে| এফসিসির ব্যবস্থাপক সদস্যদের উদ্দেশে লেখা এক বিবৃতিতে বলেন, (২৯ আগস্ট, ২০২৬) নির্ধারিত ইউরোপ ও এশিয়া বিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দিল্লি পুলিশ এফসিসিকে বাধা দিয়েছে| আপনারা বুঝবেন, এই আকস্মিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে|'

এফসিসির সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ দ্য প্রিন্টকে বলেন, এই অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে| তিনি বলেন, 'এটি ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা| দিল্লি পুলিশ কেন অনুমতি দেয়নি, তা আমি নিশ্চিত নই|'

নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা এতে পুলিশের কোনো হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেন| তিনি বলেন, 'এফসিসিকে প্যানেল আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না| তাদের কোনো অনুষ্ঠানে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না|'

তবে দ্য প্রিন্টের হাতে আসা একটি নথিতে দেখা যায়, পুলিশ নিজেই লিখেছে, এই অনুষ্ঠানের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না| নথিতে লেখা ছিল, 'তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্কের কারণে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হলো না, এই মন্তব্যসহ ফেরত পাঠানো হলো|' নথিতে তিলক মার্গ থানার সিলও ছিল|

ওই নথিতে এফসিসির সহকারী ব্যবস্থাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন|

সেখানে লেখা ছিল, 'আপনাদের জানানো যাচ্ছে, আমরা ২৯ শনিবার, ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এফসিসিতে একটি সেমিনার-কাম-সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করছি| এটি বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত| কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আমরা অনুরোধ করছি, সংবাদ সম্মেলনের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হোক| অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য সংযুক্ত করা হলো|'

এদিকে এফসিসির একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে জানায়, এই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের জেরে|

৫ আগস্টের সেই সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন| ওই সূত্র বলেন, 'নয়াদিল্লিতে হাসিনাকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছিল| এবারের প্যানেলে আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত সদস্য এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজ করা আরেকজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন| এই কারণেই সম্ভবত অনুমতি দেওয়া হয়নি|'