মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরে গরুর খামার, দুগ্ধ উৎপাদন ও তেলের ঘানি পরিদর্শন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন| গতকাল রোববার সকালে গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের খাপরিখাল এলাকায় প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত|
সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা উন্নত জাতের এক হাজার ২শ গরু পালনের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি| এ সময় গাভির পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নত জাতের গরুর প্রজনন কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন|
প্যারাগন অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও এজিএম মেজবাহ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন| এ সময় খামারে উৎপাদিত দুধ পান করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন|
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখে বলেন, উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে| একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্যও এসব কৃষিপণ্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করছে| প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনকে দুই দেশের কৃষি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা|
এরপর উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের চন্দনের হাটে গিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত| তিনি ঘানিতে সরিষা থেকে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন| রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী ডিয়েন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ|
এ সময় রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন|
পরে সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গঙ্গাচড়া ত্যাগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত|
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেছেন|
পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা জানান, রোববার দুপুরে তিনি দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় যান|
এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী মিসেস ডিয়ান ডাও ও মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন| এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত|
সেখান থেকে সকাল ১০টার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়িতে প্যারাগন গ্রুপ পরিচালিত দুগ্ধ খামার 'প্যারাগন ডেইরি' পরিদর্শন করেন| পরে তিনি তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় যান| এ সময় ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক প্রকৌশলী রুহুল আমিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর উত্তরাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব ও প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান এবং হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন|
তিস্তা ব্যারাজের নান্দনিক পরিবেশ ও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হন ক্রিস্টেনসেন ও তার স্ত্রী| তারা ব্যারাজ এলাকায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে পরিবেশ উপভোগ করেন|
পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা জানান, পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি, নাব্য সংকট ও সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন| পরে তিস্তা ব্যারাজ এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্টহাউজ 'অবসর'-এ স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন| মতবিনিময়কালে তাকে তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা, নদী সংস্কার এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণে স্থানীয় কৃষকদের ওপর সৃষ্ট প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়|
এ সময় রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানান সরফরাজ|
পরিদর্শন শেষে বেলা ৩টার দিকে সড়কপথে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ইএসডিও গেস্ট হাউজের উদ্দেশ্যে রওনা হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত| সেখানে তিনি রাতযাপন করবেন|
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার উপপ্রধান (মিশন সার্ভিস) ফুয়াদ হাসান পরাগ স্বাক্ষরিত সফর সূচিতে বলা হয়েছে, সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার ভোরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদী, সকাল ১০টায় বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের চতুর্দেশীয় আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং বেলা ১২টার দিকে পঞ্চগড় জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত|
সভা শেষে বেলা ৩টার দিকে পঞ্চগড় মহিলা কলেজে অবস্থিত পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম (পাথরের জাদুঘর) ও গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করবেন| দ্বিতীয়দিনের শেষে যাত্রীযাপন করবেন ঠাকুরগাঁও ইএসডিও গেস্ট হাউজে| সফরের তৃতীয় শেষ দিন মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তের মন্ডুমালা গ্রামে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী 'সূর্যপুরী আম' গাছ, বেলা ১১টার দিকে দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করবেন|
এরপর বেলা ১টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ১১১ একর জমির ওপর নির্মিত কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা ( কেলোকা) পরিদর্শন করবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত|
সেখান থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে রেলপথে পার্বতীপুর থেকে প্রেসিডেন্ট সেলুন কোচে (বগি নম্বর-১২৬৫) করে সৈয়দপুরের দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা ও জাদুঘরে যাবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত| সেখানে পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ ও সৈয়দপুর খ্রিস্টান চার্চ পরিদর্শন করবেন তিনি| পরে রাতে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরবেন| নীলফামারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে| তার সফরসূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে| সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে|
