সুসংবাদ প্রতিদিন

চান্দিনায় নিচু জমিতে লাউ চাষে চমক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

চলতি মৌসুমে টানা বর্ষণে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার অধিকাংশ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয় মরিচ, ঢ্যাঁড়শ, পটোল ও লালশাকের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পদের সবজি খেত। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো ফসল চোখের সামনে পচে যেতে দেখে একপর্যায়ে চরম দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় অনেক কৃষক। তবে এই প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা ও চরম দুঃসময়ের মাঝেও হার না মেনে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন উপজেলার মেহার গ্রামের উদ্যমী কৃষক জামাল উদ্দিন। উঁচু জমিতে লাউ চাষ করে তিনি যেন এক নিঃশব্দ সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যা আজ তাকে এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত আলোর দিশা।

দুর্যোগের শুরুতেই যখন নিচু জমিগুলোর সবজি নষ্ট হয়ে বাজারে মারাত্মক সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়, ঠিক তখনই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেন জামাল। নিজের প্রায় ৩০ শতাংশ উঁচু জমিকে প্রস্তুত করে সেখানে যত্ন সহকারে উন্নত জাতের লাউয়ের বীজ রোপণ করেন। নিয়মিত সেচ, পরিমিত জৈব সার ও বাড়তি পরিচর্যার ফলে অল্প দিনেই রূপ বদলাতে থাকে তার খেতের চেহারা। বর্তমানে তার পুরো মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। মাচাজুড়ে কচি কচি গাঢ় সবুজ লাউ ঝুলছে সারিবদ্ধভাবে। বাতাসে দোল খাওয়া সেই লকলকে ডালপালা আর উপচে পড়া ফলন দেখে জামালের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে অপার তৃপ্তি ও প্রাপ্তির এক নির্মল হাসি। যে কোনো পথিক বা পথচারী এই শান্ত ও চোখ জুড়ানো রূপ রুপালি দৃশ্যের দিকে তাকালে থমকে যেতে বাধ্য হন।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে চান্দিনার পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে কাঁচা সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি সবজির দাম আগের যে কোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রান্নাঘরের সাধারণ সবজি কেনাই যেন সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। আর ঠিক এই সময়েই বাজারে তৈরি হওয়া বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগাতে পেরেছেন উঁচু জমিতে লাউ ফলানো এসব কৃষকরা। বর্তমান বাজারে যে কোনো সবজির চেয়ে লাউয়ের সমাদর ও দর দুটোই বেশ চড়া। বাজারে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চোখের পলকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে মেহার গ্রামের তরতাজা লাউ। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই আকারভেদে ছোট ও মাঝারি সাইজের প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, আর বড় ও সুপুষ্ট লাউগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। চান্দিনার অন্যান্য চাষিদের মতো জামাল উদ্দিনও এই আকাশছোঁয়া বাজারদরে দারুণভাবে লাভবান হচ্ছেন। পানির দর থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ বাদ দেওয়ার পরও দিন শেষে যে টাকা ঘরে আসছে, তাতে জামাল এখন নিজের ভাগ্যবদলের স্পষ্ট স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছেন। কৃষক জামাল উদ্দিনের এই সাফল্য শুধু তার নিজের সংসারেই সচ্ছলতা আনেনি, বরং চান্দিনার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ কৃষকদের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়েছে এক নতুন নতুন প্রেরণা। চান্দিনার বিভিন্ন ব্লকের যেসব চাষি অতিবৃষ্টির মুখে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তারাও এখন জামালের দেখানো এই সফল লাউ চাষের পথ অনুসরণ করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।