জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলার রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা প্রদর্শন করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনে কেন্দ্রটি প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি উল্লিখিত সময়ে গড়ে এক হাজার ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে, যা বর্তমান চাহিদার নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে জুন মাসে কেন্দ্রটি ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল, যা গড়ে ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য। মূলত উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখার এ ধারা জাতীয় গ্রিডের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে সরাসরি সহায়তা করছে এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
?বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপারেশনাল কার্যক্রমের গভীর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করাই বর্তমানে কেন্দ্রটির মূল চ্যালেঞ্জ।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক খাঁন নোমান শিবলী বাসসকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যেখানে পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে, তবে রামপালের এ ধারাবাহিক উৎপাদন সেই আস্থার জায়গাটি পুনর্গঠন করছে। বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি কেন্দ্রটি একইভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলোতে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। রুট ডাইনামিক্স এবং জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত যাতে কোনোভাবেই উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
