মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়া
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

দাঁত ঝকঝকে রাখলেই যে মুখের স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভালো থাকে, তা নয়। মুখের ভেতরে বাস করে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীব। এদের কেউ দাঁত ও মাঢ়ির জন্য ক্ষতিকর, আবার কেউ মুখের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অণুজীব সমাজকেই বলা হয় 'ওরাল মাইক্রোবায়োম'। গবেষণায় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে, মুখের এ মাইক্রোবায়োমের সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। আর এ অণুজীবের ভারসাম্য অনেকটাই নির্ভর করতে পারে প্রতিদিনের খাবারের ওপর।
মুখগহ্বরকে ছোট একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এখানে থাকা বিভিন্ন অণুজীব নিজেদের পছন্দমতো জায়গা বেছে নেয়। কেউ দাঁতের উপরিভাগে থাকে, কেউ জিহ্বায়, আবার কেউ দাঁত ও মাঢ়ির মাঝের সরু ফাঁকে বসতি গড়ে। সব ব্যাকটেরিয়া অবশ্য ক্ষতিকর নয়। স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউটান্সের মতো কিছু ব্যাকটেরিয়া চিনিজাতীয় খাবার ব্যবহার করে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। অন্য দিকে ভেইলোনেলা, অ্যাক্টিনোমাইসিস, স্ট্রেপ্টোকক্কাসের কিছু প্রজাতি এবং নাইসেরিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুর সঙ্গে খাবার ও জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা করে তাদের আধিপত্য কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই মুখের সব ব্যাকটেরিয়াকে দূর করার চেষ্টা না করে উপকারী ও ক্ষতিকর অণুজীবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
মুখের অণুজীবের ভারসাম্য নষ্ট হলে শুধু দাঁত বা মাঢ়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। গবেষণায় দুর্বল ওরাল মাইক্রোবায়োমের সঙ্গে হৃদ্?রোগ, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা, আলঝাইমার রোগ, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় মুখের অণুজীবের সঙ্গে কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত নয়। গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করছেন। মুখের উপকারী অণুজীবের জন্য খাদ্যতালিকায় পাতাযুক্ত সবুজ সবজি রাখা যেতে পারে। পালং শাক, কেল, বিট ও মূলার মতো সবজিতে নাইট্রেট থাকে। মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়া এ নাইট্রেটকে নাইট্রাইটে রূপান্তর করে। পরে শরীরে তৈরি হওয়া নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালি প্রসারণ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
