হোয়াটসঅ্যাপ চিনিয়ে দেবে
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তি ডেস্ক

অনলাইনে প্রতারণার ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে হোয়াটসঅ্যাপ। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো বার্তা পেলেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে 'স্ক্যাম অ্যালার্ট' নামে একটি বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফিচারটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আপাতত বেছে নেওয়া কিছু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর কাছে এর পরীক্ষামূলক সংস্করণ পৌঁছেছে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ফিচারটি কতটা কার্যকরভাবে সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করতে পারে, সেটিই এখন যাচাই করে দেখছে হোয়াটসঅ্যাপ।
নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল, কোনো মেসেজ প্রতারণামূলক হতে পারে বলে মনে হলে ব্যবহারকারীকে আগেভাগেই সতর্ক করা। কোনো বার্তাকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হলে সংশ্লিষ্ট চ্যাটের মধ্যেই একটি সতর্কবার্তা বা ওয়ার্নিং মেসেজ দেখা যাবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সতর্কতা শুধু মেসেজের প্রাপক দেখতে পাবেন। অর্থাৎ যিনি সম্ভাব্য প্রতারণামূলক বার্তাটি পাঠিয়েছেন, তার কাছে এই সতর্কবার্তার কোনো তথ্য পৌঁছাবে না। ফলে সন্দেহভাজন প্রেরক বুঝতে পারবেন না যে তার পাঠানো মেসেজ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ সতর্ক করেছে।
সতর্কবার্তা দেখানোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে ব্যবহারকারীর হাতে। মেসেজটি প্রতারণামূলক বলে মনে হলে তিনি সরাসরি ওই ব্যক্তিকে ব্লক করতে পারবেন। প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপের কাছে প্রেরককে রিপোর্টও করা যাবে। অন্যদিকে কোনো ব্যবহারকারীর যদি মনে হয় যে সতর্ক করা মেসেজটি আসলে নিরাপদ এবং ভুল করে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে তিনি সেই ওয়ার্নিং মেসেজ সরিয়ে দিতে পারবেন।
ব্যবহারকারী যদি কোনো নির্দিষ্ট মেসেজকে সন্দেহজনক মনে না করেন এবং সতর্কতাটি সরিয়ে দেন, তাহলে একই প্রেরকের পরবর্তী বার্তাগুলোতে আর এই ধরনের 'স্ক্যাম অ্যালার্ট' দেখানো হবে না পরীক্ষামূলক ফিচারটির বর্তমান কার্যপ্রণালি এমনই বলে জানা যাচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, 'স্ক্যাম অ্যালার্ট' এখনো চূড়ান্তভাবে সব হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্য চালু হয়নি। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ফিচারটিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তাই কবে নাগাদ এটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
অনলাইনে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল সামনে আসার সময়ে এই ধরনের সতর্কতা ব্যবহারকারীদের সন্দেহজনক মেসেজ সম্পর্কে দ্রুত সচেতন করতে পারে। তবে কোনো ফিচারের সতর্কবার্তার উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক প্রেরককে ব্লক ও রিপোর্ট করাও জরুরি।
