আদানির চুক্তির অনুসন্ধানে যুক্ত হচ্ছে কায়কাউসের দুর্নীতির অভিযোগ
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক মুখ্য সচিব ও বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের নতুন অভিযোগ আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে চলমান অনুসন্ধানে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক বলেছে, নতুন অভিযোগে কায়কাউসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'অভিযোগটি চলমান 'আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ' শীর্ষক অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।'
আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি যখন হয়, তখন কায়কাউস বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ ছিল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে চুক্তিতে শুল্ক ও কর ছাড় রাখা হয়েছে। এতে সরকার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
আদানির বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে তদন্ত করে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শুল্ক 'ফাঁকির' প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল এনবিআর। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে চুক্তিসংক্রান্ত নথি চেয়েছিল দুদক। চুক্তির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি ও যোগাযোগের তথ্য এবং এ নিয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকলে সেই প্রতিবেদনও চায় দুদক।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ২০১৭ সালের নভেম্বরে আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড লিমিটেডের সঙ্গে ২৫ বছরের বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ঝাড়খণ্ডের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে নিট ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্ব থেকে আহমদ কায়কাউসকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব করা হয়। ১৯৮৬ সালের বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০১৭ সাল থেকে বিদ্যুৎ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তার আগের কয়েক মাস তিনি ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
সাবেক এমপি নাসিমের নতুন অভিযোগ চলমান মামলায়
ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে আসা নতুন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্তে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে দুদক। অভিযোগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য ও দলীয় পদ বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এভাবে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। নতুন অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন মামলার সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ নাসিমের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ৫২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৭ টাকার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তার স্ত্রী জাহানারা আরজুর বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ টাকার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলাদা মামলা করা হয়।
ডিএনসিসির ওয়াকিটকি কেনা নিয়ে অনুসন্ধান
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়াকিটকি কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও একজন তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকার পরও একটি দেশীয় কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়। দরপত্রে কোম্পানিটি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে। কেনা ওয়াকিটকির দাম অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। দুদক বলেছে, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ডিএনসিসির কয়েকজন কর্মচারী এসব কাজ করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ অগাস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি দল ডিএনসিসিতে তথ্য যাচাইয়ে অভিযান চালায়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ওয়াকিটকি কেনার নথি সংগ্রহ করা হয়। নথির প্রাথমিক পর্যালোচনায় ওয়াকিটকির দাম অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি পাওয়ার কথা জানিয়েছিল দুদক।
